প্রকাশনা · সংস্কৃত সাহিত্য · ইংরেজি পাঠকসমাজ
জীবন ও কাজ
১৮৪২–১৮৯৫ · ইংরেজি মহাভারতের প্রকাশক[১]
কলকাতার পুস্তকবিক্রেতা ও প্রকাশক প্রতাপচন্দ্র রায় ভারতীয় ধ্রুপদি সাহিত্যকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেন। তিনি সম্পূর্ণ মহাভারত-এর ইংরেজি গদ্য অনুবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেন; ১৮৮৩ থেকে ১৮৯৬ সালের মধ্যে তা কিস্তিতে প্রকাশিত হয়।[২]
তাঁর প্রকাশনার কাজের সঙ্গে দান ও শিক্ষাপ্রসারের ভাবনাও যুক্ত ছিল। সমকালীন সংবাদপত্রে তাঁর প্রতিষ্ঠিত দাতব্য কার্যালয়ের বিবরণ পাওয়া যায়। সংস্কৃত ধর্মসাহিত্যের ইংরেজি ও ভারতীয় ভাষার অনুবাদ প্রচার ছিল এর উদ্দেশ্য। ইংরেজি মহাভারত-এর প্রথম পর্বসহ প্রতিষ্ঠানের বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হত।[৩]
এই উদ্যোগে প্রকাশক রায়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিশোরীমোহন গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুবাদ। রায় প্রথম চোদ্দটি পর্ব প্রকাশ করেন; তাঁর মৃত্যুর পরে স্ত্রী সুন্দরীবালা রায় বাকি চারটি প্রকাশ করেন। পরবর্তী সংস্করণের প্রকাশকের ভূমিকায় বলা হয়েছে, গঙ্গোপাধ্যায় প্রথমে নিজের নাম প্রকাশ না করায় কিছু সংস্করণে অনুবাদটি ভুল করে পি. সি. রায়ের নামে চলে যায়। দুই ব্যক্তির ভূমিকা স্বীকার করলে প্রকাশকের উদ্যোগ ও অনুবাদকের লেখকত্ব—উভয়ই যথাযথ মর্যাদা পায়।[২]
এই সমাজের সংগ্রহে তাঁর অন্তর্ভুক্তির সরাসরি ঐতিহাসিক উৎস আছে। Hindu Castes and Sects (১৮৯৬), পৃ. ১৫৮-এ যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য “Pratapa Chandra Ray”-কে সুতা আগুরী বলেছেন এবং প্রকাশক হিসেবে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। উনিশ শতকের সাহিত্যপ্রকাশনার এক বড় কাজের সঙ্গে আগুরী ইতিহাসের যোগসূত্র এই অংশটি।[৪]
দত্তও সমাজের উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সাঁকোর প্রতাপচন্দ্র রায়কে আলোচনা করেছেন (পৃ. ৩১৩)। আগুরী ইতিহাসে তাঁর স্থানের আরও একটি গবেষণাভিত্তিক উৎস এটি। উপরে ব্যবহৃত প্রকাশনাতথ্য রায়ের প্রকাশনার কাজ ও গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুবাদকে পৃথক করে।[৫]
ভট্টাচার্যের বিবরণ সম্পর্কে পড়ুন ↗ · পৃ. ১৫৮-এর মূল উল্লেখ দেখুন

