ঐতিহ্য প্রকল্পসংস্কৃতি
সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও সমাজজীবন
এই পাতার উৎস: Aguri Heritage (আগুরী ঐতিহ্য) প্রকল্প।
https://aguri-heritage.in/bn/culture
প্রকল্পের নিজস্ব মৌলিক উপকরণের সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অন্যান্য উপকরণের নিজস্ব স্বত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে। স্বত্ব ও পুনর্ব্যবহার
আগুরী সমাজের নথিতে গ্রামজীবন, পূজা, রীতি ও সংস্কার, মুদ্রণ এবং পারিবারিক স্মৃতি।
সর্বশেষ হালনাগাদ:

এই পাতার সূত্র উল্লেখ করুন
আগুরী ঐতিহ্য. “সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও সমাজজীবন.” সর্বশেষ হালনাগাদ: . https://aguri-heritage.in/bn/culture.
এই পাতার সূত্র উল্লেখ করলেই তা পুনঃপ্রকাশের অনুমতি পাওয়া যায় না। স্বত্ব ও পুনর্ব্যবহার.
আগুরী সংস্কৃতির যতটুকু নথিতে মেলে, তার বেশির ভাগটাই বর্ধমানের গ্রামের সংস্কৃতি—যেখানে আগুরী পরিবারগুলি সদ্গোপ, বাগদি, ব্রাহ্মণ ও আরও বহু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি চাষ করেছে, পূজা করেছে, উৎসব করেছে। কয়েকটি রীতি তাঁদের আলাদা করেছিল, আর সেই রীতিগুলি নিয়ে অর্ধশতাব্দী ধরে তর্ক চলেছে জাতিবিষয়ক গ্রন্থে, জনগণনার দপ্তরে এবং সম্প্রদায়ের নিজস্ব পত্রিকায়।
এই পাতা তিন ধরনের নথির উপর দাঁড়িয়ে: ১৮৭৪ থেকে ১৮৯৬-এর মধ্যে ঔপনিবেশিক ও বাঙালি লেখকদের বিবরণ, ১৮৯১ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত সম্প্রদায়ের নিজস্ব প্রকাশনা, এবং ১৯৯০ ও ২০১০-এর দশকের গ্রামীণ ক্ষেত্রসমীক্ষা। প্রতিটি বক্তব্যের পিছনে কী ধরনের প্রমাণ আছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। জমি, ব্যবসা ও পারিবারিক উদ্যোগের কথা আছে ইতিহাস পাতায়।
- নথিভুক্ত: তারিখযুক্ত নথি, অথবা নথি বা ক্ষেত্রসমীক্ষার ভিত্তিতে গবেষকের পাঠ।
- সমাজের নিজস্ব বিবরণ: সম্প্রদায়ের নিজের লেখক ও প্রকাশনা তার রীতিনীতি সম্পর্কে যা বলেছে।
- সাহিত্যিক: উপন্যাসের চিত্রণ, যা দেখায় আগুরীদের কীভাবে দেখা হত—কোনও নির্দিষ্ট পরিবার কীভাবে বাঁচত তা নয়।
- ব্যাখ্যা: প্রমাণের ব্যাখ্যা, এই ওয়েবসাইটের নিজস্ব ব্যাখ্যাসহ, যা নিয়ে অন্যদের দ্বিমত থাকতে পারে।
গ্রাম ও গৃহস্থালির জীবন
নথিভুক্ত ১৮৯১ সালে রিজলি আগুরীদের বলেছিলেন “পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত সংখ্যাবহুল একটি কৃষিজীবী ও ব্যবসায়ী জাতি” (পৃ. ১২)।[১] তার পরের গ্রামীণ ক্ষেত্রসমীক্ষাতেও আগুরী পরিবারগুলিকে দেখা যায় গ্রামের যৌথ সংস্কৃতির ভিতরে, তার বাইরে নয়। কাটোয়া থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরের মুশারু গ্রামে শালিনী সাহা দেখেছেন, সদ্গোপ, গোয়ালা, নমঃশূদ্র ও বাগদিদের মধ্যে উগ্রক্ষত্রিয়রাই প্রধান কৃষিজীবী সম্প্রদায়। জমির মালিক পরিবারগুলির বড় বাড়ি মাঠের ধারে, আর খেতমজুরেরা থাকেন গ্রামের পথের পাশে খড়-মাটির কুঁড়েঘরে (পৃ. ৭)।[২]

লালবিহারী দে · ১৮৭৪
Govinda Samanta
উপন্যাসে এক আগুরী গৃহস্থ
সাহিত্যিক উত্তরপাড়ার জমিদার জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ১৮৭১ সালে “বাংলার গ্রামীণ জনসাধারণ ও শ্রমজীবী শ্রেণির সামাজিক ও পারিবারিক জীবন” নিয়ে শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের জন্য একটি পুরস্কার ঘোষণা করেন। সেই পুরস্কারের জন্যই লালবিহারী দে Govinda Samanta লেখেন; ১৮৭৪ সালে এটি পুরস্কার পায় এবং পরে Bengal Peasant Life নামে পুনঃপ্রকাশিত হয় (ভূমিকা)। উপন্যাসের পরিবার বর্ধমান শহরের প্রায় ছয় মাইল উত্তর-পূর্বের কাঞ্চনপুর গ্রামের তিন সামন্ত ভাই; তাঁরা “কাঞ্চনপুরের অধিকাংশ কৃষকের মতো সদ্গোপ জাতির নন, উগ্রক্ষত্রিয় বা আগুরী জাতির” (পৃ. ১০, ৩১)।[৩]
লেখক এই গৃহস্থকে কৃষিবর্ষ জুড়ে অনুসরণ করেছেন। নভেম্বরের নবান্নে পারিবারিক পুরোহিত মরসুমের প্রথম ধান দেবতা ও পিতৃপুরুষদের নিবেদন করেন; পরিবার খাওয়ার আগে তার ভাগ পায় গরু, শেয়াল, পাখি, পুকুরের মাছ আর পিঁপড়েরা। তারপরের ভোজে ভাত, ডাল, সর্ষের তেলে ভাজা শাক ও সবজি, দু’রকম মাছ আর পরমান্ন—কিন্তু মাংস নেই, কারণ “বদন যে শ্রেণির হিন্দু, তাঁদের পক্ষে মাংস নিষিদ্ধ” (পৃ. ২০৪–২০৭)। মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ আসে আগুরী জাতির নিজস্ব ঘটকের মাধ্যমে, কারণ “প্রত্যেক জাতির নিজের ঘটক আছে” (পৃ. ৮২)। বন্ধুত্ব জাতির সীমা পেরোয়, একসঙ্গে খাওয়া পেরোয় না: “একজন আগুরীর সবচেয়ে অন্তরঙ্গ বন্ধু হতে পারেন কোনও গোয়ালা বা সদ্গোপ … যদিও তাঁরা একসঙ্গে বসে খান না” (পৃ. ১৪৯)।[৩]
উপন্যাসটি দেখায়, ১৮৭০-এর দশকে ইংরেজ পাঠকের কাছে একটি আগুরী পরিবারকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এর বর্ণিত জীবনের বেশির ভাগই বর্ধমানের সাধারণ কৃষকজীবন; এটি কোনও বাস্তব পরিবারের নথি নয়। উপন্যাসের পদবিগুলির আলোচনা আছে পদবি পাতায়।
পূজা ও গ্রামদেবতা
নথিভুক্ত রিজলি লিখেছিলেন, “ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক আচারে আগুরীরা বাংলার উচ্চবর্ণ হিন্দুদের থেকে সামান্যই আলাদা।” তাঁদের অধিকাংশ বৈষ্ণব বা শাক্ত, শৈব তুলনায় কম; আর তাঁদের অনুষ্ঠান করেন ব্রাহ্মণেরা, “যাঁদের এই কাজে কোনও মর্যাদাহানি হয় না” (পৃ. ১৩)।[১] ভট্টাচার্য যোগ করেছেন, বর্ধমানের স্থানীয় ব্রাহ্মণেরা আগুরীদের দান গ্রহণ করতেন এবং তাঁদের বাড়িতে ব্রাহ্মণের রান্না অন্ন খেতেন (পৃ. ১৫৭)।[৪] দত্ত এই ব্যবস্থাকে জাতিটির মর্যাদার স্থানীয় স্বীকৃতি হিসেবে পড়েছেন (পৃ. ৩১৮–৩১৯); এর পিছনের মর্যাদার দাবিগুলি আলোচিত হয়েছে ইতিহাস পাতায়।[৫]
সমাজের নিজস্ব বিবরণ সম্প্রদায়ের নিজের লেখকেরা গৃহদেবতা, দেবোত্তর সম্পত্তি ও অতিথিসেবার এক গৃহধর্মের ছবি এঁকেছেন। হরিচরণ বন্ধু (১৯৪০) মহামহোপাধ্যায় পঞ্চানন তর্করত্নকে উদ্ধৃত করেছেন: বহু উগ্রক্ষত্রিয়ের সদাব্রত ও অতিথিশালা আছে, অনেকের বিগ্রহস্থাপন আছে, শালগ্রামশিলা প্রায় ঘরে ঘরে, অনেকে শিবপ্রতিষ্ঠা করেছেন, আর প্রায় সকলেই বিশেষ আগ্রহে তীর্থভ্রমণ করেন (পৃ. ৪২)। বন্ধু নিজে যোগ করেছেন, প্রতিটি বংশই একটি কুলদেবতার সেবা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তার জন্য নিষ্কর জমি রেখেছে (পৃ. ৪১), আর বর্ধমান অঞ্চলের প্রায় প্রত্যেক উগ্রক্ষত্রিয় পরিবারে শাকম্ভরী মাতার পূজা প্রচলিত (পৃ. ৪০)।[৬] শাকম্ভরী-পূজার দাবিটি তিনি রাজপুত বংশোদ্ভবের প্রমাণ হিসেবে দিয়েছিলেন; কোনও ক্ষেত্রসমীক্ষায় এখনও তা যাচাই হয়নি।
নথিভুক্ত · নৃতাত্ত্বিক গবেষণা গ্রামদেবতা কোনও জাতির নন, গ্রামের। সাহা দেখেছেন, জলবায়ু বর্ধমানের কৃষকদের এক অভিন্ন অভিজ্ঞতা দিলেও গ্রামদেবতারাই প্রতিটি গ্রামকে তার নিজস্ব পরিচয় দিয়েছেন (পৃ. ৬)। মুশারুর দেবী ঝঙ্কেশ্বরী; গ্রামের গোখরো সাপ, ঝাঁকলাই, তাঁরই রূপ বলে পূজিত (পৃ. ৭)। পূর্ব বর্ধমানের আরও কয়েকটি গ্রামে সাপ পূজিত হয়, সেখানে সাধারণত দেবী মনসার সূত্রে (পৃ. ১১–১২)। বর্ষার শ্রাবণ মাসে ঝঙ্কেশ্বরীর বার্ষিক পূজায় সাপকে দুধে স্নান করিয়ে সবার সামনে দেখানো হয়; ২০২১ থেকে এই পূজা ক্রমশ বেশি জনসমক্ষে এসেছে (পৃ. ১৪)।[২]
ধর্মরাজ: খরা ও বৃষ্টির দেবতা
নথিভুক্ত ধর্মঠাকুর, যিনি ধর্মরাজ নামেও পরিচিত, রাঢ়ের গ্রামদেবতা—বীরভূম, ভাগীরথী, উত্তর মেদিনীপুর ও মানভূমের মধ্যবর্তী পশ্চিমবঙ্গের পুরোনো অঞ্চল। ১৯৫১-র জনগণনার জন্য এই উপাসনার সমীক্ষা করতে গিয়ে লোকসংস্কৃতিবিদ আশুতোষ ভট্টাচার্য দেখেছিলেন, সেখানে “প্রায় সব শ্রেণির হিন্দুর” মধ্যে এর প্রচলন (পৃ. ৩৫১)। ধর্মঠাকুরের কোনও মূর্তি নেই; তিনি একটি বা একাধিক অমসৃণ পাথর, গাছতলায় বা গ্রামের থানে রাখা। খরায় গ্রামবাসী, সন্তানের আশায় নিঃসন্তান নারী আর আরোগ্যের আশায় রোগী তাঁর শরণ নেন; তাঁর বার্ষিক পূজা হয় চৈত্র থেকে আষাঢ়ের মধ্যে কোনও এক পূর্ণিমায়, বর্ষার আগের তপ্ত মাসগুলিতে। তাঁকে ছাগবলি ও মাটির ঘোড়া দেওয়া হয়। প্রথাগতভাবে তাঁর পুরোহিত ডোমেরা; যেখানে ব্রাহ্মণেরা প্রবল, সেখানে ব্রাহ্মণেরাও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন (পৃ. ৩৫১–৩৫৪)।[৭] পিটারসনের ১৯১০ সালের বর্ধমান গেজেটিয়ারও দেখেছিল, তাঁর থান “সারা পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ”, আর “ব্রাহ্মণসহ সব জাতি” পুরোহিতের মাধ্যমে তাঁকে অর্ঘ্য দেয় (পৃ. ৫৭)।[৮]
নথিভুক্ত আগুরী পরিবারেরাও এই পূজার শরিক ছিলেন। আশুতোষ ভট্টাচার্যের সবচেয়ে স্পষ্ট দৃষ্টান্ত বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ থানার খুদকুড়ি (Khudkuri) গ্রামের এক আগুরী পরিবার, যাঁদের কুলদেবতা ছিলেন ধর্মঠাকুর। একজন ব্রাহ্মণ পুরোহিত প্রতিদিন আতপ চালের বদলে এক সের সেদ্ধ ভাতের নৈবেদ্যে তাঁর পূজা করতেন—আশুতোষ ভট্টাচার্যের ভাষায় “অশাস্ত্রীয়” নৈবেদ্য—আর পাথরটিকে “কার্যত” বিষ্ণুর শালগ্রামশিলার সঙ্গে এক করে ফেলেছিলেন। প্রবল খরায় আগুরীরা পাথরটিকে তার মাটির ঘর থেকে বের করে ভরদুপুরের রোদে রেখে দিতেন “শাস্তি” হিসেবে, এই বিশ্বাসে যে তখনই বৃষ্টি নামবে (পৃ. ৩৫২–৩৫৩, ৩৫৯)।[৭] এটি একটি পরিবারের কথা, ১৯৫৩-য় যেমন লেখা হয়েছিল। তখন বা এখন আর কত আগুরী পরিবার ধর্মঠাকুরের পূজা করেন, তা নিয়ে কোনও গবেষণা হয়নি।
নথিভুক্ত · নৃতাত্ত্বিক গবেষণা আগুরী-প্রধান অঞ্চলে ধর্মঠাকুর আজও গ্রামধর্মের অঙ্গ। ভাতার ও মঙ্গলকোটের যে গ্রামগুলিতে শালিনী সাহা তাঁর পিএইচডি-র ক্ষেত্রসমীক্ষা করেছেন, সেখানে কৃষক ও খেতমজুরদের অর্ধেকের বেশি উগ্রক্ষত্রিয় (পৃ. ১৩–১৪); আর তাঁর ব্যবহৃত আঞ্চলিক ইতিহাসকারদের মতে বর্ধমানের দেবতাদের মধ্যে ধর্মরাজ ও মনসার “বিশেষ মর্যাদা” (পৃ. ৮৭–৮৮)। মঙ্গলকোটের বনকাপাশির গ্রামবাসীরা বলেন, তাঁদের দেবতা কালরুদ্র শিবকে লাঙল দেওয়ার সময় মাটির নিচে পাওয়া গিয়েছিল, আর বর্ধমানের এক মহারাজা তাঁর সেবায় জমি দিয়েছিলেন (পৃ. ১২০)। তাঁর পূজা মূলত উচ্চবর্ণের হাতে চলে গেছে; নিম্নবর্ণের ভক্তেরা, যাঁদের অধিকাংশ খেতমজুর, ধর্মপালকে পূজা করেন তাঁর “কৃষক রূপ” হিসেবে। সেখানে ধর্মরাজ তফশিলি জাতির দেবতা, পূজিত হন বুদ্ধপূর্ণিমায়, অর্থাৎ বৈশাখী পূর্ণিমায় (পৃ. ১৬৮–১৬৯, ১৯২, ১৯৮)।[৯] ভৌমিক জামালপুরেও একই রকম মিশ্রণ লক্ষ করেছেন: সেখানকার বুড়োরাজ “ধর্মঠাকুর ও শিব দুয়েরই মিশ্রণ”, আর তাঁর গাজন আজও সেই পূর্ণিমাতেই হয় (পৃ. ৮০)।[১০]
ব্যাখ্যা ধর্মঠাকুরের উৎস নিয়ে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিতর্ক চলছে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাঁকে ছদ্মবেশী বুদ্ধ মনে করতেন, আর এই মত জনপ্রিয় থেকে গেছে; কে. পি. চট্টোপাধ্যায় তাঁকে বৈদিক বরুণের পরবর্তী রূপ বলেছেন; আর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় নামটিকে এক অস্ট্রো-এশীয় শব্দ থেকে উদ্ভূত বলে ধরেছেন (পৃ. ৩৫৮)। আশুতোষ ভট্টাচার্য বৌদ্ধ ও বৈদিক দুই ব্যাখ্যাই খারিজ করেছেন। তাঁর সিদ্ধান্ত, ধর্ম “বৈদিক বা ছদ্ম-পৌরাণিক সূর্যদেবতা নন”; তাঁর ভিত্তি এই অঞ্চলের আদি অধিবাসীদের এক “আদিম সূর্য-উপাসনা”, যা পরে সংস্কৃতায়িত নামে হিন্দু পূজায় গৃহীত হয় (পৃ. ৩৫৮–৩৬০)।[৭] পরবর্তী লেখকেরা একক উৎসের বদলে নানা স্তরের কথা বলেন। ভৌমিক গাজনকে “আদিবাসী, বৌদ্ধ ও হিন্দু—তিনটি পৃথক সংস্কৃতির মিশ্রণ” বলেছেন (পৃ. ৮০),[১০] আর বনকাপাশির গ্রামবাসীরা সাহাকে বলেছিলেন, ধর্মরাজ ও শিবের পূজা একসঙ্গে “আর্য ও প্রাক্-আর্য উপাসনার” মিলন (পৃ. ১৯৭)।[৯] এই ওয়েবসাইটের পাঠে ধর্মরাজকে সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় রাঢ়ের কৃষকদের এক প্রাক্-বৈদিক দেবতা হিসেবে, খরা, বৃষ্টি ও উর্বরতা যাঁর এক্তিয়ার; আগুরী পরিবারেরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁর পূজা করেছেন, আর খুদকুড়িতে গৃহদেবতা হিসেবেও।
সর্পদেবী মনসা
নথিভুক্ত সাপের কামড় থেকে রক্ষাকর্ত্রী মনসা ছিলেন সারা বর্ধমানের গৃহদেবী। পিটারসনের ১৯১০ সালের গেজেটিয়ার অনুযায়ী তিনি “সব জাতির হিন্দুর” উপাস্য, আর অধিকাংশ পরিবারের বাড়িতে তাঁর থান ছিল। দশহরায় উঠোনে মনসা গাছের ডাল পোঁতা হত, আর নাগপঞ্চমীতে তার পূজা হত। শ্রাবণ ও ভাদ্রের সংক্রান্তিতে আবার তাঁর পূজা হত, সঙ্গে বণিক চাঁদ সদাগরের সঙ্গে তাঁর বিরোধের গান; উচ্চবর্ণের ঘরে পূজা করতেন ব্রাহ্মণেরা (পৃ. ৫৬)।[৮] এক শতাব্দী পরে সাহা ভাতার, কুলচন্দা, বনকাপাশি ও আমারুনের বহু পরিবারে মনসাপূজাকে “একটি সাধারণ আচার” হিসেবে পেয়েছেন। গ্রামদেবতাদের থেকে আলাদা, মনসা কোনও একটি গ্রামের নন; এক বৃদ্ধার কথায়, তিনি এখন “সবার দেবী” হয়ে গেছেন (পৃ. ৯০)।[৯] সব জায়গায় ছবিটা এক নয়। ক্ষীরগ্রামে তোগাওয়া দেখেছিলেন, মনসাপূজা বাগদিদের সবচেয়ে বড় উৎসব, তাঁর মন্দিরে বাগদিদের নিজস্ব পুরোহিত, আর উগ্রক্ষত্রিয় পাড়াগুলির প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা (পৃ. ৩২)।[১১]
ব্যাখ্যা ধর্মঠাকুরের মতো মনসাও সাধারণভাবে নিচের স্তর থেকে ব্রাহ্মণ্য হিন্দুধর্মে উঠে এসেছেন বলে মনে করা হয়। ভৌমিক লিখেছেন, তাঁর “উৎস নিম্নবর্গে” এবং আগে “কেবল নিম্নশ্রেণির মানুষই” তাঁর পূজা করতেন (পৃ. ৭৪); ‘মনসা’ নামটি “এক অনার্য শব্দের সংস্কৃতায়িত রূপ”, আর বৌদ্ধ সর্পদেবী জাঙ্গুলীও তাঁর উপাসনায় মিশেছেন (পৃ. ৮২)। মনসামঙ্গল-এ তাঁর প্রথম পূজারি এক চাষি, জেলেরা ও এক গোয়ালা (পৃ. ৫২)।[১০] পিটারসন রমেশচন্দ্র দত্তকে উদ্ধৃত করেছেন। দত্ত চাঁদ সদাগরের কাহিনি—যে বণিক শেষ পর্যন্ত মনসার পূজা করতে বাধ্য হন—হিন্দু সমাজে এক “আদিবাসী উপাসনা” প্রবেশের স্মৃতি হিসেবে পড়েছেন, যার ঘটনাস্থল দামোদরের কাছে (পৃ. ৫৬–৫৭)।[৮] সাহা সাহিত্য-ইতিহাসবিদ সুকুমার সেনের এই পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করেছেন যে ধর্মঠাকুর ও মনসার ভূমিকা, পৌরাণিক উৎস ও পূজাবিধি প্রায়ই একই রকম (পৃ. ৮৮)।[৯] এই ওয়েবসাইটের পাঠে দুই দেবতাই রাঢ়ের প্রাচীনতর, প্রাক্-ব্রাহ্মণ্য ধর্ম থেকে আগুরী ঘরে এসেছেন, সেই পথেই, যে পথে তাঁরা এই অঞ্চলের অধিকাংশ জাতির কাছে পৌঁছেছিলেন। কেউই বিশেষভাবে আগুরীদের নিজস্ব ঐতিহ্য নন, তবে দুজনেই আগুরী ধর্মজীবনের অংশ।
ক্ষীরগ্রাম ও দেবী যোগাদ্যা
নথিভুক্ত · নৃতাত্ত্বিক গবেষণা আগুরীদের আচারজীবনের সবচেয়ে বিস্তারিত বিবরণ মেলে মঙ্গলকোট ব্লকের ক্ষীরগ্রামে দেবী যোগাদ্যার মন্দির থেকে, যেখানে মাসাহিকো তোগাওয়া ১৯৯৪–৯৫ সালে ক্ষেত্রসমীক্ষা করেছিলেন। উগ্রক্ষত্রিয়রা ছিলেন গ্রামের বৃহত্তম সম্প্রদায়, জানা ও সুত পরিবারে বিভক্ত; উপাধিতে চেনা নয়টি বংশ মন্দিরের অনুষ্ঠানে একজন করে প্রতিনিধি পাঠাত (পৃ. ৪৯–৫০)।[১২]
প্রতি মাসের শেষ দিনে একজন মালাকার গুয়া ডাক বা আহ্বান করেন। তিনি ডোমপ্রধান ও দত্ত বংশের প্রধান হিসেবে স্মৃত “ভরত দত্ত”-র নাম নেন, তারপর এরুয়ার, নসিগ্রাম, কুসুমগ্রাম, কুড়মুন, কালীগ্রাম ও মাজিগ্রামের আগুরীদের ডাকেন (পৃ. ৮৬)। তোগাওয়া এগুলিকে উগ্রক্ষত্রিয়-প্রধান গ্রাম বলে বর্ণনা করেছেন (পৃ. ৪৪)।[১২] আনন্দবাজার পত্রিকা-য় তরুণ চক্রবর্তীর বাংলা প্রতিবেদনেও এই গুয়া ডাকা-র বিবরণ আছে: আগুরী গ্রামগুলির নাম ঘোষণার আগে একজন মালাকার পান ও সুপারি দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের আহ্বান করেন।[১৩]
আচারবর্ষে বংশগুলির স্থান বারবার চিহ্নিত হয়। বৈশাখী উৎসব ও মন্দিরের দুর্গাপূজার প্রতিটি পর্বে পুরোহিত নির্দিষ্ট ক্রমে, দত্ত থেকে শুরু করে, নয়টি উপাধি ডাকেন এবং প্রত্যেক প্রতিনিধিকে ভস্ম বা সিঁদুরের ফোঁটা কিংবা শোলার মালা দেন (পৃ. ৯৪, ১৩৪)। দত্ত ও সামন্ত প্রতিনিধিরা—দু’জনেই জানা বংশের—উৎসবজুড়ে উপবীত ধারণ করেন, দেবীর ঘট বহন করেন ও ময়ূরনাচ করেন; একটি আচারিক নকল লড়াইয়ে তাঁরা বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রধান পুরোহিতকে “আক্রমণ” করেন, তারপর তাঁকে প্রণাম করেন (পৃ. ৯২, ৯৯, ১০৫)। মহিষবলির সময় বাগদি মন্দিরসেবকেরা পশুটি আনেন, চৌধুরী বংশের একজন প্রতিনিধি হাড়িকাঠে তার মাথা ধরেন এবং একজন কর্মকার কোপ দেন (পৃ. ১৪১)। উগ্রক্ষত্রিয় বংশগুলি নিজেদের পাড়ায় পাঁচটি দুর্গাপূজা করত; গ্রামে দেবী আগে থেকেই আছেন বলে সেখানে প্রতিমার বদলে নবপত্রিকায় দেবীর পূজা হত (পৃ. ১৩৫, ১৪৪–১৪৬)।[১২]
ব্যাখ্যা এই আচার বহু জাতির মধ্যে সম্মান ভাগ করে দেয় এবং তার মধ্যে আগুরীদের স্থান নির্দিষ্ট করে। তোগাওয়ার অনুমান, দত্ত বংশের অগ্রাধিকার হয়তো একসময়ের আঞ্চলিক প্রধানের মর্যাদার স্মৃতি বহন করে (পৃ. ১৮৬)—যা এই মতের প্রতিদ্বন্দ্বী যে আগুরীদের প্রতিপত্তি এসেছিল রাজের মাধ্যমে (গবেষণা পাতা দেখুন)।[১২] তাঁর গবেষণা ১৯৯০-এর দশকের একটি গ্রামের বিবরণ; প্রত্যেক আগুরী পরিবারের অভিন্ন রীতির নয়। ক্ষীরগ্রামের পরিবার ও জমির কথা পড়ুন।
উপবীত, বিবাহ ও অশৌচ
১৮৯০-এর দশকে নথিভুক্ত রীতিগুলি আংশিকভাবে লেখা হয়েছিল এই কারণে যে সেগুলিকে মর্যাদার চিহ্ন বলে ধরা হত। এগুলি নির্দিষ্ট সময়ের বিবরণ; বর্তমান বিবাহ, আচার বা সমাজের সদস্যপদের নির্দেশ নয়। পরিবার ও স্থানভেদে রীতি আলাদা ছিল।
নথিভুক্ত উপবীত। কেবল জানা আগুরীরাই উপবীত ধারণ করতেন, বিবাহের সময়; রিজলি লক্ষ করেছিলেন, যে জানারা নিজের হাতে লাঙল চালান তাঁরা সাধারণত উপবীত ত্যাগ করেন (পৃ. ১২)।[১] বিদ্যানিধি (১৮৯৬) যোগ করেছেন, সেই অনুষ্ঠান বেদবিহিত নয়, আর সুতরা শূদ্রের আচার মানেন (পৃ. ১৮৭–১৮৮)।[১৪] ভৌমিক ১৯১১-র জনগণনার কাছাকাছি সময়ে উপবীত ধারণ শুরু করা জাতিগুলির মধ্যে আগুরীদের নাম করেছেন (পৃ. ২৪৭), যদিও জানাদের রীতি ১৮৯১-তেই নথিভুক্ত।[১০] ক্ষীরগ্রামে ১৯৯০-এর দশকেও দুই জানা বংশ দেবীর উৎসবে উপবীত ধারণ করতেন (তোগাওয়া, পৃ. ৯২)।[১২] জানা ও সুত নিয়ে পড়ুন।
নথিভুক্ত বিবাহ। রিজলি দেখেছিলেন, প্রতিটি উপবিভাগ কুলীন ও মৌলিক পরিবারে বিভক্ত; কুলীনদের উপাধি কেশ, পাই, শ্যাম ও পাল। কুলীনের পক্ষে মৌলিক-কন্যা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল না, কিন্তু এমন বিবাহ বারবার হলে পুরো পরিবার মৌলিক স্তরে নেমে যেত। কাশ্যপ, শাণ্ডিল্য বা ভরদ্বাজের মতো একই গোত্রের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। মেয়েদের বিয়ে হত শিশু বয়সে, বিধবাবিবাহ হত না, বিবাহবিচ্ছেদ স্বীকৃত ছিল না, আর বহুবিবাহ অনুমোদিত হলেও বিরল (পৃ. ১২–১৩)।[১] বিদ্যানিধি হাজরা ও চৌধুরী পরিবারকে প্রায় সবই কুলীন বলেছেন, তবে যোগ করেছেন যে অর্থবল ও সৎকার্য থাকলে কৌলীন্য লাভ করা যায় (পৃ. ১৮৭–১৮৮)।[১৪] বন্ধু (১৯৪০) দুই শাখাকেই কুলীন, সৎগৃহস্থ ও মৌলিক—এই তিন স্তরে ভাগ করেছেন (পৃ. ৩৩)।[৬] ঊনবিংশ শতকের শেষ দিক থেকে সম্পন্ন আগুরীরা, সদ্গোপ ও তেলিদের মতো, বরপক্ষের দেওয়া কন্যাপণের বদলে কন্যাপক্ষের দেওয়া বরপণ গ্রহণ করেন (দত্ত, পৃ. ৩১৮)।[৫]
নথিভুক্ত অশৌচ। রিজলি লিখেছেন, আগুরীরা মৃত্যুর পর প্রথম শ্রাদ্ধ করতেন ত্রিশতম দিনে, ব্রাহ্মণদের মতো একাদশ দিনে নয় (পৃ. ১৩); ভট্টাচার্য আদ্যশ্রাদ্ধের দিন বলেছেন একত্রিশতম, “প্রকৃত ক্ষত্রিয়দের” ত্রয়োদশ দিন নয় (পৃ. ১৫৮)।[১][৪] অথচ বিদ্যানিধি লিখেছেন, জানারা ক্ষত্রিয়দের মতো বারো দিন অশৌচ পালন করেন, যদিও প্রায়শ্চিত্তের সময় শূদ্রের বিধান নেন (পৃ. ১৮৭–১৮৮); আর বন্ধু সম্প্রদায়ের ক্ষত্রিয় আচারের মধ্যে বারো দিনের অশৌচ গণ্য করেছেন (পৃ. ৩২)।[১৪][৬] বিবরণগুলি সম্ভবত ভিন্ন শাখার কথা বলছে। দত্তের মতে, মাসব্যাপী অশৌচ ছিল একটি কারণ যার জন্য সম্পন্ন আগুরীদেরও প্রতিবেশীরা শূদ্র বলে গণ্য করত (পৃ. ৩১৪–৩১৫)।[৫]
রীতি নিয়ে তর্ক ও সংস্কার
নথিভুক্ত শুরু থেকেই সম্প্রদায় ছাপার অক্ষরে নিজের রীতিনীতি নিয়ে তর্ক করেছে। উগ্রক্ষত্রিয়-প্রতিনিধি-র প্রথম খণ্ডে (১৮৯১–৯২) ছাপা হয় “উগ্রক্ষত্রিয় সমাজ ও সম্মতি আইন”, তার প্রতিবাদ এবং “প্রতিবাদের প্রতিবাদ”—সেই বছরেই সম্মতি আইন মেয়েদের সম্মতির বয়স দশ থেকে বাড়িয়ে বারো করে। একই খণ্ডে আছে হরিদাস সাঁইয়ের “বাল্যবিবাহ” ও পণ্ডিত অক্ষয়কুমার বিদ্যাবিনোদের “বাল্যবিবাহ প্রতিবাদ”, পণ্ডিত হৃষীকেশ ব্যাকরণসরস্বতীর “বিধবা বিবাহ বিচার”, এবং সম্পাদকের “সমাজ সংস্কার” ও “বিবাহে পণ গ্রহণ বা পুত্র কন্যা বিক্রয়” (সূচি, স্ক্যান ২–৩)।[১৫] দ্বিতীয় বছরে পত্রিকা জানায়, হিন্দু পত্রিকা হিসেবে সে শাস্ত্রের পরস্পরবিরোধী মতগুলি বাদ-প্রতিবাদের আকারে আলোচনা করবে; বিধবার ব্রহ্মচর্যকে সে পুনর্বিবাহের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে, যদিও দুটিকেই শাস্ত্রসম্মত বলে মানে (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ. ২–৩)।[১৬] এই বিতর্কগুলি এখনও অনূদিত হয়নি।
নথিভুক্ত শ্রাবণ ১২৯৯-এ (জুলাই–আগস্ট ১৮৯২) ষষ্ঠ অধিবেশনে উগ্রক্ষত্রিয় সমিতি পাঁচটি উদ্দেশ্য গ্রহণ করে: জাতীয় সমাজের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার, জাতীয় ধনভাণ্ডার সঞ্চয়, শিল্প, কৃষি ও স্বাস্থ্যের উন্নতি, জাতির মধ্যে একতা স্থাপন, এবং একখানি জাতীয় পত্র প্রচার। প্রত্যেক সভ্যকে বছরে এক টাকা দিতে হত। সেই সভা এইচ. এইচ. রিজলির প্রণীত জাতিমালায় উগ্রক্ষত্রিয় জাতির বিবরণকে “সম্পূর্ণ ভ্রমাত্মক” ঘোষণা করে এবং তার প্রতিবাদের পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতের ভার দেয় হরিদাস সাঁইকে (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ. ১০৪–১০৫)।[১৬] প্রথম খণ্ডেই তিনি “বেঙ্গল গভর্ণমেন্ট কৃত জাতিমালা ও উগ্রক্ষত্রিয়” লিখেছিলেন (সূচি, স্ক্যান ৩)।[১৫]
নথিভুক্ত পরবর্তী কর্মসূচির বিবরণ দিয়েছেন দত্ত। আনুমানিক ১৯১৩ পর্যন্ত সক্রিয় এবং ১৯২৭-এ পুনর্গঠিত সমিতি পণপ্রথার বিরুদ্ধে এবং বিধবাবিবাহ, বৈজ্ঞানিক কৃষি, স্বদেশি দ্রব্য ও শিক্ষার পক্ষে প্রচার করে, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষায় সাহায্য করে, আর সভ্যদের জীবনযাত্রা সংস্কার ও আচার শুদ্ধ করার আহ্বান জানায় (পৃ. ৩১১–৩১৩)। ১৯৩৮ সালে কলকাতায় একটি যুব সংগঠন, নিখিল ভারত উগ্রক্ষত্রিয় যুবক সংঘ, গঠিত হয়। ১৯২০-এর দশক থেকে জানা ও সুত পরিবারের মধ্যে বিবাহ হয়, আর ১৯৩৮ সালের এপ্রিলে বাঁকুড়ায় রাধানাথ কেশ ও মহামায়ার বিধবাবিবাহ সম্পন্ন হয় (পৃ. ৩১৩ ও টীকা ২০, ২ মে ১৯৩৮-এর বর্ধমান বার্তা-র উল্লেখে)।[৫] উপবিভাগগুলিকে একত্র করার উদ্যোগ ভৌমিকও আলোচনা করেছেন (পৃ. ২৫২)।[১০]
ব্যাখ্যা সংস্কার দুই দিকে টেনেছিল। একদিকে সংস্কারকেরা যে রীতিগুলিকে ক্ষতিকর মনে করতেন—যেমন পণপ্রথা বা বিধবাবিবাহে নিষেধ—সেগুলি দূর করার চেষ্টা; অন্যদিকে উচ্চতর মর্যাদার সংকেতবাহী রীতি, যেমন উপবীত ও কৌলীন্যের বিবাহবিধি, গ্রহণে উৎসাহ—যাকে দত্ত “ক্ষত্রিয়ায়ন” বলেছেন (পৃ. ৩১৪–৩১৮)।[৫] ছাপা প্রস্তাব দেখায় নেতারা কী চেয়েছিলেন; প্রত্যেক পরিবার কী করেছিল তা নয়।
মুদ্রণ, জ্ঞানচর্চা ও বাংলা ভাষা

মাসিক পত্রিকা · কলকাতা · ১৮৯১–৯২
উগ্রক্ষত্রিয়-প্রতিনিধি
Ugrakshatriya-Pratinidhi
সম্প্রদায়ের প্রথম পত্রিকা শুরু হয় বৈশাখ ১২৯৮-এ (এপ্রিল ১৮৯১), কলকাতার ২২ রামকান্ত মিস্ত্রির লেনের কার্যালয় থেকে (স্ক্যান ১)।[১৫] এর সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী শ্রীশচন্দ্র তা ১৮৯২ সালে পত্রিকাটি সমিতির হাতে অর্পণ করেন (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ. ১০৫)। ডাকমাশুলসহ বার্ষিক মূল্য ছিল দুই টাকা, প্রায় ৪৮০ পৃষ্ঠার জন্য (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ. ৫)।[১৬]
পত্রিকা নিজের জন্য তিনটি কাজ স্থির করেছিল: সম্প্রদায়ের ইতিহাস সংগ্রহ, সমাজসংস্কারের জন্য সামাজিক বিষয়ের আলোচনা, এবং শিক্ষার প্রসার। প্রথম কাজে ব্যর্থতা সে নিজেই স্বীকার করেছিল—কল্পনা বা জনশ্রুতির সাহায্যে ইতিহাস গড়ে তুলতে সে রাজি হয়নি (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ. ৩)।[১৬] প্রথম খণ্ডে আছে কবিতা, সাধক সংগীত ও দর্শন থেকে শুরু করে নেপোলিয়নের শেষ জীবনী, সতরঞ্চ-বিজ্ঞান, বর্ধমান রাজকলেজ, বাঙালির শিক্ষা ও পাশ্চাত্য শিক্ষাপ্রণালী, এবং বিদ্যাসাগরের মহত্ত্ব (সূচি, স্ক্যান ২–৩)।[১৫] The Indian Mirror লিখেছিল, পত্রিকায় সামাজিক, ধর্মীয় ও সাহিত্যিক বিষয়ে বহু রচনা আছে (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ. ৪)।[১৬]
নথিভুক্ত প্রথম খণ্ডে কুঞ্জবিহারী বিশ্বাস, এম. এ.-র প্রবন্ধ তড়িৎ শুরু হয় এই স্বীকারোক্তি দিয়ে যে পারিভাষিক শব্দের অভাবে বাংলায় বিজ্ঞান লেখা কঠিন। বাংলা গদ্যের মধ্যে ইংরেজি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, আর পাঠকদের উপযুক্ত বাংলা প্রতিশব্দ জানাতে আহ্বান করা হয়েছে।[১৫]
নথিভুক্ত মুদ্রণই থেকে গেল সম্প্রদায়ের প্রধান মঞ্চ। শিতিকণ্ঠ স্মৃতিতীর্থ ও হরিচরণ বন্ধু সম্প্রদায়ের মর্যাদা নিয়ে গ্রন্থ লেখেন (দত্ত, পৃ. ৩১৫), আর ১৯২৯ থেকে পুনর্গঠিত সমিতি ত্রৈমাসিক উগ্রক্ষত্রিয় পত্রিকা প্রকাশ করে, যাতে সম্প্রদায় ও সমকালীন সামাজিক-ধর্মীয় সমস্যা নিয়ে লেখা থাকত (পৃ. ৩১১–৩১২)।[৫] বন্ধুর রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয়-র ১৯৪০-এর সংশোধিত সংস্করণ এই ওয়েবসাইটে বাংলায় ও ইংরেজিতে পড়া যায়।
শিক্ষা পেশাগত ও সাহিত্যিক জীবনেও পথ খুলেছিল। ভট্টাচার্য মহাভারত-এর প্রকাশক প্রতাপচন্দ্র রায়-কে সুত আগুরী বলেছেন (পৃ. ১৫৮)।[৪] দত্ত নাম করেছেন নসিগ্রামের গণিতজ্ঞ মনোহর রায়, মাঝিগ্রামের চর্মরোগবিশেষজ্ঞ গণপতি পাঁজা এবং বাঁকুড়ার লেখক সত্যকিঙ্কর সাহানা-র, যাঁর বইয়ের মধ্যে আছে শকুন্তলা রহস্য ও হিন্দুধর্ম (পৃ. ৩১৩–৩১৪)।[৫]
ছাপার অক্ষরে একটি খ্যাতি
সাহিত্যিক আগুরীদের নিয়ে একটি কথা টিকে আছে: “আগুরি গোয়ার”—১৯৪০ সালে বন্ধু লিখেছেন, লোকে তখনও তা বলে (পৃ. ৬৩)।[৬] এই খ্যাতিকে ঘিরেই লালবিহারী দে Govinda Samanta-র একটি অধ্যায় লিখেছিলেন। জমিদার গোবিন্দকে জুতোপেটা করালে কাঞ্চনপুরের আগুরী পরিবারগুলি—“পঁচিশ ঘরের বেশি নয়”—তাঁর বাড়িতে জড়ো হয়ে জমিদারকে নানাভাবে হয়রান করার সংকল্প নেয়; আর সদ্গোপ কৃষকেরা তাদের ভাবে “অতি স্পর্শকাতর এক শ্রেণি, যারা তুচ্ছ ব্যাপারে হইচই করে”। দে আগুরীদের পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী ও স্বাধীনচেতা বলেছেন, তারপর যোগ করেছেন, তাদের তেজ “কেবল অন্য বাঙালি রায়তদের তুলনায়” (পৃ. ২৭৮–২৮০)।[৩] স্বাতী মৈত্র দেখিয়েছেন, উপন্যাসটি এই উগ্রতাকে—এবং অন্য জাতিগুলির নিরীহতাকেও—জাতির স্বাভাবিক গুণ হিসেবে উপস্থাপন করে (পৃ. ১৮–১৯)।[১৭]
নথিভুক্ত একই খ্যাতিকে অন্য লেখকেরা ভিন্ন ভিন্ন কাজে লাগিয়েছেন। রিজলি রাগী স্বভাবের জনশ্রুতিকে মনুর উগ্র-বর্ণনা ও জেলার অপরাধের নথির সঙ্গে জুড়েছিলেন (পৃ. ১৩)।[১] ভট্টাচার্যের উদ্ধৃত ১৮৯৫ সালের Reis and Rayyet-এর একটি সমালোচনা একে আগুরীদের পক্ষে ব্যবহার করেছিল: যে জাতি “স্বভাবতই উষ্ণমেজাজি এবং অধীনতা সহ্য করতে অক্ষম”, তারা ওল্ডহ্যামের প্রস্তাবিত ক্ষেত্রী ও সদ্গোপ পূর্বপুরুষদের বংশধর হতে পারে না (পৃ. ১৫৬)।[৪] বন্ধু কথাটি ব্যবহার করেছেন একটি পুরোনো পদে সুত শাখার “অতীব ক্রোধী, অহঙ্কারী ও কলহপ্রিয়” ছবিকে সমর্থন করতে (পৃ. ৬৩); আবার তাঁরই উদ্ধৃত তর্করত্ন সম্প্রদায়ের “তেজস্বিতা, পরোপকারিতা, শরণাগত-পালন”-এর প্রশংসা করেছেন (পৃ. ৪২)।[৬]
ব্যাখ্যা এই খ্যাতি দেখায় রাজকর্মচারী, ঔপন্যাসিক ও সম্প্রদায়ের নিজের লেখকেরা আগুরীদের নিয়ে কীভাবে তর্ক করেছেন। এটি কোনও মানুষের চরিত্রের প্রমাণ নয়; উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পরিচয় মেজাজ নির্ধারণ করে—এই ধারণা এই ওয়েবসাইট প্রত্যাখ্যান করে। কেউ কেউ একে সম্প্রদায়ের স্মৃত সামরিক অতীতের সঙ্গে যুক্ত করেন; একটি প্রবাদ সেই প্রশ্নের মীমাংসা কোনও দিকেই করতে পারে না (উৎপত্তি-প্রবন্ধ দেখুন)।
কুলাচার্য, নাম ও জীবন্ত স্মৃতি
সমাজের নিজস্ব বিবরণ একসময় আগুরী পরিবারগুলির নিজস্ব কুলাচার্য ছিলেন। বিদ্যানিধি (১৮৯৬) কুলাচার্য ষষ্ঠীদাস ভট্টাচার্যের উগ্রক্ষত্রিয়-বিবরণ থেকে কয়েকটি পদ উদ্ধৃত করেছেন, যাতে “বর্দ্ধমানের আট পরগণায় আট ঘর” প্রসিদ্ধ পরিবারের নাম আছে (পৃ. ১৮৭–১৮৮); কুলাচার্যের গ্রন্থটি এখনও পাওয়া যায়নি।[১৪] বন্ধু লিখেছেন, শাখানির্বিশেষে প্রত্যেক উগ্রক্ষত্রিয় আদিপুরুষের নাম করার সময় তাঁকে “রাজা” বলে উল্লেখ করেন—যেমন “রাজা ধীরসিংহ রায়ের সন্তান” বা “রাজা নীলবন্ধুর সন্তান” (পৃ. ৩৩)।[৬] কিছু পরিবারের কাছে বংশতালিকা আছে, যেমন ইতিহাস পাতায় বর্ণিত চৈতন্যপুরের রায়চৌধুরী বংশতালিকা। তারিখযুক্ত নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার আগে পর্যন্ত এগুলি পারিবারিক ঐতিহ্য।
পদবি পারিবারিক গবেষণার একটি সূত্র, কারও সামাজিক পরিচয়ের প্রমাণ নয়; সম্প্রদায়ের পত্রিকায় লেখাও লেখকের বংশপরিচয় প্রতিষ্ঠা করে না। লোকেশ্বর বসুর আমাদের পদবীর ইতিহাস ব্যাখ্যা করে যে বহু পদবি একাধিক সম্প্রদায়ে দেখা যায়; তাই নামকে স্থান, তারিখযুক্ত নথি ও পারিবারিক বিবরণের সঙ্গে মিলিয়ে পড়াই ভালো।[১৮] পদবি পাতা দেখুন।
যা এখনও নথিভুক্ত হয়নি। আজকের আগুরী বিবাহ, খাদ্য, গান, পোশাক বা গৃহপূজা নিয়ে কোনও প্রকাশিত গবেষণা নেই। কোনও আগুরী কুলাচার্যের গ্রন্থ খুঁজে পাওয়া যায়নি, সমিতির পরবর্তী পত্রিকা ও নথিপত্র পড়া হয়নি, আর এই প্রকল্পের কাছে থাকা পত্রিকার খণ্ডগুলির অধিকাংশই অনূদিত হয়নি। ১৯৫৩-য় লেখা খুদকুড়ির আগুরী পরিবারের ধর্মঠাকুরের খোঁজ পরে আর কেউ নেননি, আর আজ আগুরী পরিবারগুলি কীভাবে মনসা বা ধর্মঠাকুরের পূজা করে, তার কোনও গবেষণা নেই। পারিবারিক ছবি, উৎসব ও পূজার বিবরণ, রান্নার প্রণালী, বংশতালিকা ও গ্রামের ইতিহাস এই ফাঁকগুলি ভরাতে পারে। প্রতিটি অবদানে স্থান, তারিখ, অবদানকারীর নাম এবং কোন অনুমতিতে তা প্রকাশ করা যাবে, তা উল্লেখ থাকা উচিত। প্রমাণ ছাড়া কোনও আধুনিক রীতিকে এই ওয়েবসাইটে কেবল আগুরীদের নিজস্ব বলে উপস্থাপন করা হয় না।
টীকা ও উৎস
- এইচ. এইচ. রিজলি, The Tribes and Castes of Bengal, প্রথম খণ্ড (১৮৯১), পৃ. ১২–১৩. ১৮৯১ সালে এক ঔপনিবেশিক লেখক কী লিখেছিলেন, তার সাক্ষ্য। লেখার জাতিগত ক্রম, উৎপত্তির অনুমান ও চরিত্রের বাঁধাধরা ধারণা এই প্রকল্প সমর্থন করে না। উৎসের বিবরণ
- শালিনী সাহা, “Endangered cobras and conservation politics: Exploring multispecies encounters in agrarian landscapes of West Bengal” (২০২৬). মূল প্রবন্ধ পড়া; পৃ. ৫ ও ৭ ছবির সঙ্গে এবং পৃ. ৬, ১১–১২ ও ১৪ নিষ্কাশিত পাঠে মেলানো। একটি গ্রামের সম্মিলিত সংস্কৃতির বিবরণ, কেবল আগুরীদের নিজস্ব প্রথা নয়। গবেষণাপত্রটি আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত (সাহা ২০২৩)। উৎসের বিবরণ
- লালবিহারী দে, Bengal Peasant Life (১৯১৬ পুনর্মুদ্রণ), ভূমিকা ও পৃ. ১০, ৩১, ৫৯, ৮২, ১৪৯, ২০৪–২০৭, ২৭৮–২৮০. পৃ. ৩১, ৫৯ ও ৮২ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পৃষ্ঠার ছবিতে পড়া হয়েছে। ভূমিকা এবং পৃ. ১০, ১৪৯, ২০৪–২০৭ ও ২৭৮–২৮০ ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ আর্কাইভের যন্ত্রপাঠে পড়া হয়েছে, পৃষ্ঠাসংখ্যা নেওয়া হয়েছে পাতার শীর্ষলেখ থেকে; এই পাতাগুলির ছবি মেলানো হয়নি। সাহিত্যিক উপস্থাপনা, যাচাইকৃত বংশতালিকা বা নৃতাত্ত্বিক বিবরণ নয়। ১৮৭৪-এর প্রথম সংস্করণের সঙ্গে পাঠ মেলানো হয়নি। উৎসের বিবরণ
- যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, Hindu Castes and Sects (১৮৯৬), সূচিপত্র পৃ. x ও পৃ. ১৫৬–১৫৮. ভট্টাচার্যের শ্রেণিবিন্যাস ও বিবরণের সাক্ষ্য; সরকারি সেনা-নিয়োগ বা রেজিমেন্টের প্রমাণ নয়। জাতিগত ক্রম, শাস্ত্রীয় বংশসূত্র ও চরিত্রের সাধারণীকরণ ঐতিহাসিক দাবি, বর্তমান তথ্য নয়। অধ্যায়ে অনুবাদকের নাম “Kishori Mohan Ganguli”; জীবনচরিতে মহাভারত সংস্করণের প্রকাশকের ভূমিকা অনুসারে Kisari Mohan Ganguli ব্যবহার করা হয়েছে। উৎসের বিবরণ
- অচিন্ত্যকুমার দত্ত, “Prosperity, Dominance, and Social Mobility: Emergence of a Mobile Caste in Colonial Southwest Bengal” (২০২৩), পৃ. ২৯৭–৩২৪. দেওয়া বইয়ে সম্পূর্ণ অধ্যায়, অন্ত্যটীকা ও গ্রন্থপঞ্জি সরাসরি পড়া হয়েছে। উল্লেখে মুদ্রিত পৃষ্ঠাসংখ্যা ব্যবহৃত। উৎপত্তির অনুমান লেখকের মত হিসেবেই রাখা হয়েছে। সংযোগে প্রকাশকের বইয়ের নথি খুলবে। উৎসের বিবরণ
- হরিচরণ বন্ধু, রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয়, দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯৪০). উৎসর্গ, ভূমিকা, নয়টি অধ্যায় ও সংরক্ষিত উপসংহারের ইংরেজি অনুবাদ ৯৮ পাতার PDF-এ রয়েছে; মূল শুদ্ধিপত্র ও অনুবাদকের টীকা-সহ। মুদ্রিত ১৪২–১৪৩ পাতা ডিজিটাল মূলে নেই। অনিশ্চিত পাঠ চিহ্নিত; সম্পূর্ণ যাচাইকৃত গবেষণা-সংস্করণ নয়। পৃথক ভূমিকার পাঠে বাংলা প্রতিলিপি ও মূল ছবি আছে। উৎসের বিবরণ
- আশুতোষ ভট্টাচার্য, “Dharma Worship in West Bengal”, এ. মিত্র, The Tribes and Castes of West Bengal (১৯৫৩), পৃ. ৩৫১–৩৬০. উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাণ্ডারের স্ক্যান (PDF পৃ. ৩৫৯–৩৬৮) থেকে ৯ অক্টোবর ২০২৬-এ যন্ত্রপাঠে (OCR) পড়া; পৃ. ৩৫২ পাতার ছবির সঙ্গে মেলানো হয়েছে। খুদকুড়ির বিবরণ ১৯৫০-এর কাছাকাছি সময়ের একটি পরিবারের। উৎস-সংক্রান্ত যুক্তি লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যা, ‘ডোম’ থেকে ‘ধর্ম’ নামের বিতর্কিত ব্যুৎপত্তিসহ। উৎসের বিবরণ
- জে. সি. কে. পিটারসন, Bengal District Gazetteers: Burdwan (১৯১০). অক্টোবর ২০২৬-এ ডিজিটাল কপি থেকে পড়া হয়েছে। পৃ. ২২-এর অনুচ্ছেদ পাতার ছবির সঙ্গে মেলানো হয়েছে; উৎপত্তি পাতায় উদ্ধৃত পৃষ্ঠাগুলি (পৃ. ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২) তার পাঠ্যস্তরে পড়া হয়েছে। ঔপনিবেশিক এই দাবি এখানে বিতর্কিত মত হিসেবে উল্লেখিত, প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস হিসেবে নয়। মনসা ও ধর্মরাজ-সংক্রান্ত অংশ (পৃ. ৫৬–৫৭) ৯ অক্টোবর ২০২৬-এ পাঠ্যস্তরে পড়া হয়েছে। উৎসের বিবরণ
- শালিনী সাহা, Fertility Worship and Monsoon among Agricultural Communities of Bardhaman (২০২৩). ৯ অক্টোবর ২০২৬-এ ভাণ্ডারের অধ্যায়-ফাইলগুলি (স্ক্যান করা পাতা) যন্ত্রপাঠে (OCR) পড়া; উদ্ধৃত অংশগুলি প্রসঙ্গসহ পড়া হয়েছে। গবেষিত গ্রামগুলিতে নানা জাতির বাস, আর গবেষণাপত্রটি কোনও রীতিকে কেবল আগুরীদের বলে চিহ্নিত করেনি। এর থেকে লেখা ২০২৬-এর প্রবন্ধটি আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত (সাহা ২০২৬)। উৎসের বিবরণ
- সুদর্শনা ভৌমিক, The Changing World of Caste and Hierarchy in Bengal: Depiction from the Mangalkavyas c. 1700–1931 (২০২৩). দেওয়া বইয়ের প্রতিটি আগুরী ও উগ্রক্ষত্রিয় অংশ পূর্ণপাঠ অনুসন্ধানে খুঁজে প্রসঙ্গসহ পড়া হয়েছে; বইয়ের বাকি অংশ পর্যালোচিত নয়। রাজস্থান–মানসিংহের আগমনকাহিনি লেখকের বিবৃত ঐতিহ্য হিসেবে দত্তের অনিশ্চয়তার পাশে রাখা হয়েছে। সংযোগে প্রকাশকের নথি খুলবে। মনসা ও ধর্মঠাকুর-সংক্রান্ত অংশ ৯ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রসঙ্গসহ পড়া হয়েছে। উৎসের বিবরণ
- মাসাহিকো তোগাওয়া, A Sakta-pitha in Bengal: Kingship, Caste and Sacrificial Organization in a Village Society (১৯৯৬). সংস্কৃতি পাতায় ক্ষীরগ্রামে বাগদিদের সবচেয়ে বড় উৎসব মনসাপূজা এবং তাঁদের নিজস্ব পুরোহিতের বিবরণের জন্য প্রথম অধ্যায়ের পৃ. ৩২ সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে; অংশটি গবেষণাপত্রের স্ক্যানের সঙ্গে মেলানো হয়েছে। বংশ, মন্দিরের জমি ও আচার নিয়ে অন্য আলোচনাগুলি ২০০৬ সালের প্রকাশিত বই উদ্ধৃত করে (Togawa 2006 দেখুন)। গবেষণাপত্রটি একটি স্বতন্ত্র উৎস হিসেবে ব্যবহৃত। উৎসের বিবরণ
- মাসাহিকো তোগাওয়া, An Abode of the Goddess: Kingship, Caste and Sacrificial Organization in a Bengal Village (২০০৬). সম্পূর্ণ বইটি পড়া হয়েছে। এটি ১৯৯৪–৯৫ সালের একটি গ্রামের বিবরণ ও পূর্ববর্তী রীতির লেখককৃত পুনর্গঠন; সব আগুরী বসতির সমীক্ষা নয়। উৎসের বিবরণ
- তরুণ চক্রবর্তী, “শরতের দুর্গোৎসবেও জলমগ্ন থাকেন ক্ষীরগ্রামের দশভুজা” — আনন্দবাজার পত্রিকা (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩). বাংলা নিবন্ধ সরাসরি পড়া হয়েছে। রাজাদের কালক্রমের অসংগতি ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। উৎসের বিবরণ
- লালমোহন বিদ্যানিধি, সম্বন্ধনির্ণয়, সামান্যকাণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ (১৮৯৬). archive.org-এর পাঠে আগুরী অংশটি খুঁজে প্রসঙ্গসহ পড়া হয়েছে; OCR যাচাই হয়নি। কুলাচার্যের মূল গ্রন্থ পাওয়া যায়নি। পরবর্তী মুদ্রণ (১৮৯৮) archive.org-এ আছে। উৎসের বিবরণ
- উগ্রক্ষত্রিয়-প্রতিনিধি, প্রথম খণ্ড (১২৯৮ বঙ্গাব্দ). মালিকের দেওয়া PDF। সম্পূর্ণ তড়িৎ প্রবন্ধ (মুদ্রিত পৃ. ১২–২৩) ও প্রথম সম্পাদকীয়ের সূচনাপৃষ্ঠা স্ক্যানের সঙ্গে মিলিয়ে অনূদিত; নির্বাচিত পাঠ-টীকাও আছে। বাংলা যন্ত্রপাঠ অযাচাইকৃত। সংস্কৃতি পাতায় উদ্ধৃত শিরোনাম ও লেখকের নামের জন্য সূচিপত্র (স্ক্যান ২–৩) ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ ছবির সঙ্গে আবার মেলানো হয়েছে। উৎসের বিবরণ
- উগ্রক্ষত্রিয়-প্রতিনিধি, দ্বিতীয় খণ্ড (১২৯৯ বঙ্গাব্দ). মালিকের দেওয়া PDF। সম্পূর্ণ প্রতিনিধির আত্মকথা (মুদ্রিত পৃ. ১–৫) স্ক্যান মিলিয়ে অনূদিত। বাংলা যন্ত্রপাঠ অযাচাইকৃত; খণ্ডটির অধিকাংশ অনূদিত নয়। সমিতির বিবরণ ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ স্ক্যানের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পড়া হয়েছে; সম্পূর্ণ অনুবাদ হয়নি। উৎসের বিবরণ
- স্বাতী মৈত্র, “Those Backward Hordes: Representing the Indian Peasant as a ‘Rebel’ in Early Indian Fiction in English” (২০২০). উপন্যাস-সংক্রান্ত অংশগুলি ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ অনলাইনে দেখা হয়েছে। উপন্যাসের পাঠ হিসেবে ব্যবহৃত, আগুরী ইতিহাসের প্রমাণ হিসেবে নয়। উৎসের বিবরণ
- লোকেশ্বর বসু, আমাদের পদবীর ইতিহাস. অনলাইন ভূমিকা সরাসরি পড়া হয়েছে। মুদ্রিত সংস্করণ, তারিখ ও পৃষ্ঠাসংখ্যা যাচাই করা হয়নি; আধুনিক আইনগত শ্রেণিবিন্যাস এখান থেকে নেওয়া হয়নি। উৎসের বিবরণ
পাতা দেখা হয়েছে: