এই পাতার সূত্র উল্লেখ করলেই তা পুনঃপ্রকাশের অনুমতি পাওয়া যায় না। স্বত্ব ও পুনর্ব্যবহার.
যেখানেই নথিতে তাঁদের দেখা মেলে, আগুরী বা উগ্রক্ষত্রিয়রা মূলত বর্ধমানের সম্প্রদায়। ১৮৭২ সালে বাংলায় গণনাভুক্ত আগুরীদের ৮৫ শতাংশ বর্ধমান জেলায় বাস করতেন।[১] তাঁদের নথিভুক্ত ইতিহাস বর্ধমান রাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে: অষ্টাদশ শতকে রাজের নগদ বেতনভোগী সেনাবাহিনী, ঊনবিংশ শতকে তার জমিদারি ও মধ্যস্বত্ব, আর বিংশ শতকে জেলার জমি, ব্যবসা ও রাজনীতি।
এই পাতায় সেই ইতিহাস ক্রমানুসারে দেওয়া হয়েছে—উৎপত্তির প্রশ্ন থেকে ভূমিসংস্কার পর্যন্ত। প্রতিটি বক্তব্যের পিছনে কী ধরনের প্রমাণ আছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
নথিভুক্ত: তারিখযুক্ত নথি, অথবা নথি, সাক্ষাৎকার বা ক্ষেত্রসমীক্ষার ভিত্তিতে গবেষকের পাঠ।
প্রতিবেদিত: স্থানীয় ইতিহাস বা প্রতিবেদন থেকে নেওয়া গবেষকের বক্তব্য, যার মূল উৎস এখনও খুঁজে দেখা হয়নি।
ঐতিহ্য: পরিবার বা সম্প্রদায়ে প্রজন্মক্রমে চলে আসা বিবরণ, কোনও নামী পূর্বপুরুষ থেকে উৎপত্তির দাবিসহ।
ব্যাখ্যা: প্রমাণের ব্যাখ্যা, এই ওয়েবসাইটের নিজস্ব গৃহীত অনুমানসহ, যা নিয়ে অন্যদের দ্বিমত থাকতে পারে।
ষোড়শ শতকের শেষভাগে রচিত মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গল-এ আঘরী বা আগুরীদের নিয়ে একটি পদ আছে। গবেষকেরা পদটি ভিন্ন ভিন্ন পাঠে উদ্ধৃত করেছেন,[১][২] আর প্রচলিত সংস্করণটি ১৭০০ সালের একটি পুথির উপর নির্ভরশীল। আলোচনা পড়ুন।
নথিভুক্ত
বর্ধমান রাজের উত্থান
পাঞ্জাবি খত্রী একটি পরিবার ১৬৫৭ বা ১৬৭৯–৮০ সালে বর্ধমানে পদ পায় এবং ১৬৯৫–৯৬ সালে জমিদার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। কীর্তিচন্দের (১৭০২–৪০) আমলে জমিদারি হয়ে ওঠে “কার্যত একটি হিন্দু রাজ্য”।[৩]
নথিভুক্ত
কোম্পানির হাতে বর্ধমান
বর্ধমান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ডিসেম্বরে কোম্পানির একটি বাহিনী বর্ধমানের কাছে রাজার সেনা ও তার বীরভূমের মিত্রদের পরাজিত করে।[৪][৩]রাজের সেনাবাহিনী সম্পর্কে পড়ুন।
নথিভুক্ত · শেষ সাল প্রতিবেদিত
নগদী বাহিনীর অবসান
রাজার নগদ বেতনভোগী সৈন্যদের মাসিক বরাদ্দ ১৭৬১ সালের ৩৩,০০০ টাকা থেকে ১৭৬৭ সালে ৮,৬৬০ টাকায় নামে; ১৭৮৭ সালে বাহিনী বিলুপ্ত হয়।[৪] দত্তের উৎস অনুযায়ী এই ব্যবস্থার শেষ ১৮০৯ সালে।[১]
নথিভুক্ত
পত্তনি স্বত্ব
১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পরে রাজা স্থায়ী মেয়াদের পত্তনি স্বত্ব দিতে শুরু করেন; ১৮১৯ সালে তা আইনি স্বীকৃতি পায়। ১৮২৬ সালে কালেক্টর এর ফলে “ভূস্বামীদের একটি নতুন শ্রেণি” গড়ে ওঠার কথা লেখেন।[৪]
জনগণনা
প্রথম গণনা
জনগণনায় বাংলায় ৭০,৬০৬ জন আগুরী গণনাভুক্ত হন, তাঁদের ৫৯,৮৮৭ জন বর্ধমান জেলায়।[১]
সাহিত্যিক
ছাপার অক্ষরে নামটি
লালবিহারী দে-র উপন্যাস Govinda Samanta, পরে Bengal Peasant Life, তার কৃষক পরিবারকে উগ্রক্ষত্রিয় বা আগুরী বলেছে।[৫]
হরিচরণ বন্ধুর বাংলা ইতিহাসগ্রন্থ রাজপুত বংশের পক্ষে যুক্তি দেয়। ১৯১৫ সালে প্রবাসী-তে তার সমালোচনা বেরোয়, আর ১৯৪০ সালে সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়।[১][১০][১১]
জনগণনা
জনগণনায় উগ্রক্ষত্রিয়
১৯২৭ সালে সমিতির পুনর্গঠনের পরে জাতিটি জনগণনায় নিজেদের আগুরী নয়, উগ্রক্ষত্রিয় হিসেবে নথিভুক্ত করাতে সম্মত হয়।[১]
স্বাধীনতা আন্দোলন
বর্ধমানে ভারত ছাড়ো
রায়না ও জামালপুরে দাশরথি তা ভারত ছাড়ো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন; কালনায় আইনজীবী আনন্দপ্রসাদ মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পর জেল ও আদালতে আক্রমণ হয়।[১২]স্বাধীনতা সংগ্রামে আগুরীদের কথা পড়ুন।
কৃষক রাজনীতি
ভূমিসংস্কার
হরেকৃষ্ণ কোঙার পশ্চিমবঙ্গের যুক্তফ্রন্ট সরকারের ভূমি ও ভূমিরাজস্ব মন্ত্রী হন।[১৩]জীবনচরিত পড়ুন।
আগুরীরা কীভাবে বা কবে গড়ে উঠেছিলেন, তার কোনও নথি টিকে নেই; নিশ্চিত তারিখযুক্ত উল্লেখও শুরু হয় অনেক পরে। চণ্ডীমঙ্গল-এর পদটি নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায় কেবল আনুমানিক ১৭০০ সাল থেকে; ভারতচন্দ্র ১৭৫০-এর দশকে বর্ধমানে আগুরীদের উল্লেখ করেছেন; আর ১৮৭২ সালের জনগণনা তাঁদের বর্ধমান রাজের শাসিত জেলাতেই কেন্দ্রীভূত দেখায়।[২][১] ম্যাকলেন চণ্ডীমঙ্গল-এর পদটিকে এই প্রমাণ হিসেবে পড়েছেন যে খত্রী শাসকদের আগমনের আগেই সেখানে আগুরীরা ছিলেন (পৃ. ১৫৭)।[৩] পদটির পাঠ ও তারিখ দুই-ই বিতর্কিত বলে এই ওয়েবসাইট সেই পাঠকে মীমাংসিত বলে ধরে না।
ব্যাখ্যা · এই ওয়েবসাইটের গৃহীত অনুমান
রাজের নগদ বেতনভোগী বাহিনীর সৈনিক
এই ওয়েবসাইটের গৃহীত অনুমান হলো, আগুরীরা বর্ধমান রাজের নগদ বেতনে পোষা নগদী সৈন্যদের বংশধর, এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সেই বাহিনী গুটিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ভূস্বামী হয়ে ওঠেন। বাহিনীটির কথা কোম্পানির নথিতে আছে (নিচে দেখুন); আগুরীদের সঙ্গে তার যোগসূত্র প্রতিবেদিত। অজিত হালদারের ১৯৮২ সালের একটি স্থানীয় ইতিহাস ও ১৯৪০ সালের সেটেলমেন্ট রিপোর্টের ভিত্তিতে দত্ত উগ্রক্ষত্রিয়দের “নগদীদের সিংহভাগ” বলেছেন, এবং সম্প্রদায়ের নিজস্ব বিবরণও লিখেছেন যে ১৭৬০-এর দশকে সামরিক জীবিকা হারিয়ে তাঁরা কৃষিকাজে আসেন (পৃ. ২৯৯)।[১]উৎপত্তি-প্রবন্ধে যুক্তি ও তার সীমাবদ্ধতা বিস্তারিত দেওয়া আছে।
শাস্ত্রীয় পরিচয় · বংশতালিকা নয়
মনুর উগ্র
রিজলি একটি প্রচলিত বিশ্বাস এবং ভট্টাচার্য একটি দাবি হিসেবে লিখেছেন যে আগুরীরা মনুস্মৃতি-র (১০.৯) উগ্র, অর্থাৎ ক্ষত্রিয় পিতা ও শূদ্র মাতার সন্তান।[৭][৯] এই সমীকরণ উগ্রক্ষত্রিয় নামটির ব্যাখ্যা দেয় (নিচে দেখুন); এটি কোনও পারিবারিক ইতিহাস নয়।
ঔপনিবেশিক তত্ত্ব · প্রত্যাখ্যাত
খত্রী ও সদ্গোপের মিলন
ডব্লিউ. বি. ওল্ডহ্যাম (১৮৯১) আগুরীদের নিজেদের ‘স্বীকারোক্তি’ বলে যা উল্লেখ করেছেন, তার ভিত্তিতে রাজপরিবারের খত্রী ও সদ্গোপদের মিলন থেকে তাঁদের উদ্ভব বলেছিলেন; ১৯১০ সালে পিটারসনের গেজেটিয়ার তা পুনরাবৃত্তি করে (পৃ. ২২)।[১৬] ভট্টাচার্যের উদ্ধৃত একটি সমালোচনায় এর পক্ষে কোনও “ঐতিহাসিক বা জাতিতাত্ত্বিক” প্রমাণ পাওয়া যায়নি (পৃ. ১৫৬–১৫৭), আর ম্যাকলেন ওল্ডহ্যামকে “স্পষ্টতই বিভ্রান্ত” বলেছেন (পৃ. ১৫৭)।[৯][৩]
ঐতিহ্য · সমর্থক নথি নেই
মানসিংহের সঙ্গে আগ্রা থেকে আগমন
ভৌমিক (পৃ. ৪৮) যে ঐতিহ্যের উল্লেখ করেছেন, তাতে ১৫৯৫ থেকে বাংলার মুঘল সুবাদার রাজা মানসিংহের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আগ্রা বা রাজস্থান থেকে আগুরীদের আগমনের কথা আছে।[২] হরিচরণ বন্ধু কাহিনিটি পঞ্চানন তর্করত্নের বলে উল্লেখ করে অনুমাননির্ভর বলে খারিজ করেছেন।[১১] বর্ধমান মানসিংহের অভিযানপথেই ছিল (ম্যাকলেন, পৃ. ১২৮–১২৯), কিন্তু কোনও নথিই কোনও আগুরী পরিবারকে তাঁর সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করে না।[৩]
সমাজের ইতিহাস · হরিচরণ বন্ধু
রাজপুত সৈনিক ও রাজকীয় ভূমিদান
রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয়-এর ১৯৪০ সালের সংস্করণে বন্ধু যুক্তি দেন যে রাজপুত যোদ্ধারা রাঢ়ে রাজকীয় ভূমিদানের অধিকারী হন; মল্লসারুলের তাম্রশাসনের নিজস্ব পাঠের ভিত্তিতে তিনি আগরী বা আগুরী নামটি অগ্রহারী থেকে উদ্ভূত বলেন।[১১] বইটি ক্ষত্রিয় স্বীকৃতির আন্দোলনের অংশ (নিচে দেখুন)। দত্ত পাল যুগের সামরিক গোষ্ঠীর সঙ্গে একটি সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা বলেছেন, তবে কেবল সম্ভাবনা হিসেবেই (পৃ. ৩০২–৩০৩)।[১]
একটি প্রয়োজনীয় পার্থক্যপুরোনো লিখিত উল্লেখ থেকে বোঝা যায় যে তখন একটি নাম ব্যবহৃত হতো। তা থেকে সমাজের প্রথম গঠনকাল জানা যায় না, কিংবা সব পরিবারের একটিই উৎপত্তি প্রমাণিত হয় না।
বর্ধমান রাজ ও তার নগদ বেতনভোগী সেনাবাহিনী
নথিভুক্ত ১৬৯৬ সালে শোভা সিংহের বিদ্রোহের সময় রাজা কৃষ্ণরাম রায় “অল্প কয়েকজন অনুচর” নিয়ে বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করতে গিয়ে নিহত হন (চক্রবর্তী, পৃ. ৫)।[৪] অর্ধশতক পরে, কীর্তিচন্দের দীর্ঘ শাসনের (১৭০২–৪০) শেষে, জমিদারির আয়তন দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার বর্গমাইল। ম্যাকলেন এই বিস্তারকে “সামরিক অভিযানের নয়, নবাবি পৃষ্ঠপোষকতার ফল” বলেছেন; তবে যেখানে প্রতিরোধ এসেছিল, যেমন চন্দ্রকোনা ও গোপভূমে, সেখানে “বর্ধমানের জমিদারি সেনা, আর প্রয়োজনে নবাবের সেনা” দখল সম্পূর্ণ করে (পৃ. ১২৫, ১৫৯)।[৩]
নথিভুক্ত জমির বিনিময়ে কাজ করা কর্মচারীদের পাশাপাশি রাজ কোষাগার থেকে নগদ বেতনে সৈন্য রাখত: নগদী, নগদ শব্দ থেকে। ম্যাকলেন একে বলেছেন “বর্ধমানের রাজার নগদী বা নগদ বেতনভোগী সেনাবাহিনী” (পৃ. ১১৭)।[৩] ১৭৭৭ সালে রাজার দেওয়ান কোম্পানিকে জানান, পারিবারিক বিবাদ ও ডাকাতদের হানা ঠেকাতে এই সৈন্য রাখা হয়েছিল। পরপর রেসিডেন্টরা তাদের জন্য মাসে কত বরাদ্দ করেছিলেন, তিনি তার তালিকাও দেন: ১৭৬১ সালে ৩৩,০০০ টাকা, ১৭৬৩ সালে ২২,০০০, ১৭৬৬ সালে ১৬,০০০ এবং ১৭৬৭ সালে ৮,৬৬০ টাকা। ১৭৬৭ সালে বাহিনীতে ছিল ১,৪৮৭ জন, তাদের ২৯৬ জন অশ্বারোহী; তারা মোতায়েন ছিল রাজবাড়িতে, রাজমাতার সঙ্গে, এবং চন্দ্রকোনার মতো চৌকিতে। সে বছর ৬৪৮ জনকে ছাঁটাই করা হয়, ৮৩৯ জন থেকে যায় (চক্রবর্তী, পৃ. ১৬৩–১৬৫)।[৪] জমির বিনিময়ে কাজ করা কর্মীদের বাহিনী ছিল আলাদা ও আরও বড়: ১৭৬৬ সালে তাতে ছিল ৩২,০৩১ জন, যার মধ্যে দুর্গ ও গিরিপথের ৪,৭৯৩ জন রক্ষী এবং ১৯,৮৪৬ জন গ্রাম্য পাইক, পেয়াদা ও কোতোয়াল (চক্রবর্তী, পৃ. ১৬২; ম্যাকলেন, পৃ. ১১৮)।[৪][৩]
নথিভুক্ত এই বাহিনীর একমাত্র নথিভুক্ত যুদ্ধ কোম্পানির বিরুদ্ধে। ১৭৬০ সালের সেপ্টেম্বরে মীর কাসিম বর্ধমান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ছেড়ে দেন। সে বছর জুলাইয়ে রাজার “বেতন-না-পাওয়া অসন্তুষ্ট সৈন্যরা” কোম্পানির সিপাহিদের উপর গুলি চালিয়েছিল (ম্যাকলেন, পৃ. ১৮৩)। ২৯ ডিসেম্বর ১৭৬০-এর রাতে সেনাপতি মিস্রি খানের নেতৃত্বে বর্ধমানের সৈন্যরা বীরভূমের রাজার বাহিনীর সঙ্গে মিলে বর্ধমান ও সাঙ্গোটগোলার মাঝে বাঁকা নদীর পারঘাটে মার্টিন হোয়াইটের অধীন কোম্পানির একটি বাহিনীর মুখোমুখি হয়। হোয়াইটের হিসাবে মিত্রবাহিনীতে ছিল প্রায় দশ হাজার লোক। তাদের প্রায় ৫০০ জন নিহত হয়, বাহিনী পরাজিত হয় (চক্রবর্তী, পৃ. ২২–২৪; ম্যাকলেন, পৃ. ১৮৪–১৮৫)।[৪][৩]
নথিভুক্ত কোম্পানি ধাপে ধাপে বাহিনী ছোট করে। প্রথম রেসিডেন্ট জনস্টোন ১৭৬৩ সালে সামরিক বেতনের বার্ষিক খরচ প্রায় ৪ লক্ষ থেকে ২.৬৪ লক্ষ টাকায় নামান, আর ১৭৬৭ সালের ছাঁটাইয়ের পরে থাকে ৮৩৯ জন (ম্যাকলেন, পৃ. ১৯২)।[৩] ১৭৮৭ সালে গৃহরক্ষী সৈন্যদের কোম্পানির এক কর্মকর্তার অধীনে রাখা হয় এবং “নগদী বাহিনী” বিলুপ্ত হয়; সেবন্দি বা অনিয়মিত সৈন্যদের একাংশ রাজা তেজচন্দের অধীনে থাকে (চক্রবর্তী, পৃ. ১৭৭)। ম্যাকলেন একই পদক্ষেপকে জমিদারি সৈন্য অর্ধেক করে ১,০০০ জনে নামানো বলে বর্ণনা করেছেন (পৃ. ২৬৩)।[৪][৩] দত্তের উৎস অনুযায়ী এই ব্যবস্থা ১৮০৯ সালে শেষ হয় (পৃ. ৩০০)।[১]
প্রতিবেদিত কোম্পানির এই নথিগুলির কোনওটিতেই সৈন্যদের জাতির উল্লেখ নেই। নগদী বাহিনীর সঙ্গে আগুরীদের সমীকরণ এসেছে দত্তের উদ্ধৃত বিংশ শতকের উৎস থেকে। হালদার ও সেটেলমেন্ট রিপোর্ট উগ্রক্ষত্রিয়দের “নগদীদের সিংহভাগ” বলেছে এবং ১৭৬০ সালের যুদ্ধে প্রায় ১০,০০০ নগদী পদাতিকের কথা লিখেছে (পৃ. ২৯৯–৩০০)।[১] এই বক্তব্যগুলির পিছনের অষ্টাদশ শতকের কাগজপত্র এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৮৯৬ সালে ভট্টাচার্য আগুরীদের “The Military Castes”-এর মধ্যে রেখেছেন; সেটি শ্রেণিবিন্যাস, চাকরির নথি নয় (নিচে দেখুন)।
জমি, উদ্যোগ ও পারিবারিক ইতিহাস
সৈনিক থেকে ভূস্বামী
প্রতিবেদিত দত্তের উদ্ধৃতি অনুযায়ী হালদার আগুরী সম্প্রদায়ের বহু প্রাক্তন নগদী সৈন্যকে প্রাথমিক ঔপনিবেশিক যুগের বর্ধমানে প্রভাবশালী কৃষকদের একটি নতুন স্তরে স্থান দিয়েছেন; তাঁদের প্রত্যেকের জোতের পরিমাণ ছিল ৩০ থেকে ১০০ একর (পৃ. ৩০৭)।[১]
নথিভুক্ত বর্ধমান জমিদারির স্বত্বব্যবস্থা এই পরিবারগুলিকে ওঠার সুযোগ দেয়। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পরে, ১৮০২ সালে রাজা পত্তনি স্বত্ব দিতে শুরু করেন: জমিদারির অধীনে খাজনা আদায়ের স্থায়ী অধিকার, যা সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রি হতো এবং ১৮১৯ সালের অষ্টম রেগুলেশনে আইনি স্বীকৃতি পায়। ১৮২৬ সালে বর্ধমানের কালেক্টর লেখেন, বংশানুক্রমিক দখলিস্বত্ব “ভূস্বামীদের একটি নতুন শ্রেণির জন্ম দিয়েছে” (চক্রবর্তী, পৃ. ১২৩–১২৭, ১৫৪)।[৪] দত্ত ও ভৌমিক দেখিয়েছেন, আগুরী ভূস্বামী ও সম্পন্ন কৃষকেরা পত্তনি স্বত্বের সাহায্যে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেন (দত্ত, পৃ. ৩০৭; ভৌমিক, পৃ. ১৯৮)।[১][২]
নথিভুক্ত ১৮৯১ সালে রিজলি দেখেন, “তাঁদের অনেকে বিভিন্ন স্তরের জমিদারি ও মধ্যস্বত্বের অধিকারী, আর জাতির সিংহভাগ মোটামুটি সচ্ছল কৃষক” (পৃ. ১৩)।[৭] ম্যাকলেন তাঁদের “জোতদার ও ছোট ব্যবসায়ীদের একটি সফল জাতি” বলেছেন, যাঁদের সঙ্গে “বর্ধমান রাজের বিশেষ সম্পর্ক” ছিল, এবং মনে করেন জমিদারির উপর রাজের নিয়ন্ত্রণে তাঁরা “একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিলেন বলে মনে হয়” (পৃ. ১৫৮)। পশ্চিম বাংলার বেশির ভাগ গ্রাম পরিচালনাকারী প্রভাবশালী কৃষকদের মধ্যে তিনি কৈবর্ত ও সদ্গোপদের সঙ্গে আগুরীদেরও ধরেছেন, তবে কবে তাঁরা সেই অবস্থানে পৌঁছন তার তারিখ দেননি (পৃ. ৫৪–৫৫)।[৩]
সমৃদ্ধি কখনও সর্বজনীন ছিল না। দত্ত দরিদ্র আগুরী কৃষকদের কথাও স্বীকার করেছেন এবং দরিদ্র প্রতিবেশীদের উপর সম্পন্ন পরিবারের ক্ষমতা পরীক্ষা করেছেন (পৃ. ৩০৬–৩০৭)।[১]
ব্যবসা, চালকল ও খনি
ব্যাখ্যা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ দত্ত কৃষিকাজ, শস্যের ব্যবসা, ঋণদান ও চালকলের মেলবন্ধন দিয়ে আগুরীদের প্রভাব ব্যাখ্যা করেছেন: লাভ জমি ও মধ্যস্বত্বে বিনিয়োগ হতো, আর রেলপথ ও বাজারের প্রসার নতুন সুযোগ এনে দেয় (পৃ. ৩০৬–৩১১)। ১৮৮০ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত বর্ধমানের চালের ব্যবসা নিয়ে তাঁর গবেষণায় সেই বাজার ও কলমালিকদের কথা আছে, যাঁদের উপর এই উদ্যোগগুলি নির্ভর করত।[১][১৭]
নথিভুক্ত · দত্ত জমিতে বিনিয়োগকারী সম্পন্ন আগুরী পরিবারগুলির মধ্যে দত্ত আঙ্গুনার হাজরা, চৈতন্যপুরের রায়চৌধুরী, পালিতপুরের তা এবং সাথীনন্দীর পাঁজা পরিবারের নাম করেছেন (পৃ. ৩০৮)। দামোদরের অপর পারের আঙ্গুনার হাজরারা বর্ধমানে চালকল ও কয়লাখনি—উভয় ক্ষেত্রেই উদ্যোগ গড়ে তোলেন (পৃ. ৩০৯)। সাথীনন্দীর বনোয়ারিলাল পাঁজার পরিবার কমিশনের ভিত্তিতে কৃষিপণ্যের ব্যবসা করে সেই আয় বর্ধমান ও বাঁকুড়ার জমিতে বিনিয়োগ করে (পৃ. ৩০৮)। বাঁকুড়ার সত্যকিঙ্কর সাহানার পরিবার কৃষিকাজ ও ঋণদান থেকে গুদাম ব্যবসা, খনিশিল্প ও চালকলে বিস্তার ঘটায় (পৃ. ৩০৯–৩১০); বর্ধমানের চালকল শিল্পের পথিকৃৎদের মধ্যে নগেন্দ্রনাথ ও জানকীনাথ সামন্তের নামও আছে (পৃ. ৩০৯)।[১] দত্ত জরিপ-প্রতিবেদন, জেলা-ইতিহাস, সংবাদপত্র ও সাক্ষাৎকারের উপর নির্ভর করেছেন। এই উদাহরণগুলির পিছনের নির্দিষ্ট কল, খনি ও তারিখ এখনও মূল নথিতে খুঁজে দেখা হয়নি, আর তালিকাটি সব উল্লেখযোগ্য পরিবারের তালিকাও নয়।
একটি গ্রামের দৃষ্টিকোণ: ক্ষীরগ্রাম
নথিভুক্ত · নৃতাত্ত্বিক গবেষণা মঙ্গলকোট ব্লকের ক্ষীরগ্রামের যোগাদ্যা মন্দির নিয়ে মাসাহিকো তোগাওয়ার গ্রন্থ An Abode of the Goddess (২০০৬) ১৯৯৪–৯৫ সালের ক্ষেত্রসমীক্ষার উপর দাঁড়িয়ে। তাঁর জাতিভিত্তিক সারণির ৬৫৫টি পরিবারের মধ্যে ২১৭টি উগ্রক্ষত্রিয়: ৮৪টি জানা আগুরী ও ১৩৩টি সুত আগুরী। বাগদি পরিবার ১৭৮টি, ব্রাহ্মণ ৮৫টি। গ্রামের কৃষিজমির বেশির ভাগ উগ্রক্ষত্রিয়দের হাতে ছিল, আর উপাধিভিত্তিক নয়টি বংশ মন্দিরের অনুষ্ঠানে একজন করে প্রতিনিধি পাঠাত। পুরোহিতেরা যে ক্রমে নাম ডাকেন, সেই ক্রমে বংশগুলি হলো দত্ত, সামন্ত, মল্ল, সানি, রায়, যশ, ছোট-রায়, ছোট-সামন্ত ও চৌধুরী; দত্ত ও সামন্ত জানা আগুরী, বাকি সাতটি সুত আগুরী (পৃ. ৪৯–৫০, ৯৪)। বইয়ে ১৯৯১-এর জনগণনা থেকে ৭২৯টি পরিবারের হিসাবও আছে, তাই দুটি মোট সংখ্যা মেলানো উচিত নয় (পৃ. ২৫, ৪৯)।[১৮]
রাজের সঙ্গে বংশগুলির সম্পর্ক চলত আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। পাঁচটি দুর্গাপূজা, প্রত্যেকটি একটি উগ্রক্ষত্রিয় পাড়ায়, রাজের মন্দিরের দুর্গাপূজার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে হতো (পৃ. ১৩০, ১৪৫–১৪৬); মন্দিরের বৈশাখী উৎসবে দায়িত্ব পালনের জন্য দত্ত ও সামন্ত বংশ মহারাজার দেওয়া সেবাজমি ভোগ করত (পৃ. ৫৯–৬১); আর জমিদারি প্রথা উঠে যাওয়ার পরে মহারাজার নামে দেওয়া অনেক বলি এই বংশগুলি নিজেদের দায়িত্বে নেয় (পৃ. ১১২)।[১৮]মন্দিরের আচার সম্পর্কে পড়ুন।
ঐতিহ্য · বংশগত দাবি চৈতন্যপুরের প্রধান রায়চৌধুরী পরিবারে রক্ষিত একটি বংশতালিকা—দত্ত এই পরিবারকে সম্পন্ন আগুরী পরিবারগুলির মধ্যে গণ্য করেছেন—বংশের সূচনা এক রাজা থেকে বলে, আদি উপাধি ‘দে’ ও নিবাস পরগনা ঢেঁয়া বলে, এবং ১১৫৪ বঙ্গাব্দে (আনুমানিক ১৭৪৬–৪৭) এরুয়ারে, ১১৮২ বঙ্গাব্দে ক্ষীরগ্রামে ও ১২০২ বঙ্গাব্দে (আনুমানিক ১৭৯৪–৯৫) চৈতন্যপুরে আসার কথা লেখে। চৌধুরী ও রায়চৌধুরী উপাধি বর্ধমানের মহারাজার দেওয়া বলে তালিকায় উল্লেখ আছে (তোগাওয়া, পৃ. ১৪৭–১৫০)। রাজবংশ থেকে উৎপত্তির দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।[১৮][১]
জেলার অন্য জায়গার ক্ষেত্রসমীক্ষাতেও প্রাধান্য ও সম্মিলিত গ্রামজীবনের একই মিশ্রণ দেখা যায়। মুশারু গ্রামে শালিনী সাহার গবেষণায় উগ্রক্ষত্রিয়রা প্রধান কৃষিজীবী সম্প্রদায়; তাঁরা সদ্গোপ, গোয়ালা, নমঃশূদ্র ও বাগদিদের সঙ্গে বাস করেন এবং গ্রামের সম্মিলিত পূজায় অংশ নেন (পৃ. ৭)।[১৯]
একটি গ্রামের দৃষ্টিকোণ: দক্ষিণ দামোদরের রায়না
নথিভুক্ত · নৃতাত্ত্বিক গবেষণা আরিল্ড এঙ্গেলসেন রুড ১৯৯২–৯৩ সালে রায়না-১ ব্লকের দুটি গ্রামে ক্ষেত্রসমীক্ষা করেন; গ্রাম দুটিকে তিনি উদয়নালা ও গোপীনাথপুর নামে ডেকেছেন, যা ইচ্ছাকৃত কাল্পনিক নাম। গোপীনাথপুরে “উগ্রক্ষত্রিয় নামেও পরিচিত” আগুরীরা ছিলেন প্রভাবশালী জাতি: ১৯৯৩ সালে গ্রামের ১,১১২ জনের মধ্যে ২১৪ জন (১৯.২ শতাংশ) আগুরী, আর মোট জমির ২৯.১ শতাংশ তাঁদের মালিকানায়। বৃহত্তম গোষ্ঠী ছিলেন বাগদিরা, জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ; গ্রামের কেন্দ্রে আগুরী পাড়ার পাশেই বাগদি পাড়া (পৃ. ১৬–১৭)। প্রায় ১৯৬০ সালে চোদ্দোটি আগুরী পরিবারের আটটির হাতে ২০ বিঘা বা তার বেশি জমি ছিল (পৃ. ৫৩, ১১৬)। আগুরী পরিবারগুলির প্রায়ই সরকারি চাকরি বা ব্যবসায় আত্মীয় ছিলেন, প্রবীণ প্রজন্মের পাঠ্যের মধ্যে জাতিভিত্তিক সাহিত্যও ছিল, এবং উচ্চমর্যাদার গোষ্ঠীগুলির মধ্যেও “বেশ কিছু স্বল্পজমির পরিবার” ছিল (পৃ. ৮৪–৮৫, ৮৯, ১১৫)।[২০]
জানা ও সুত
নথিভুক্ত ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে আগুরীরা দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত ছিলেন, জানা ও সুত, যাঁদের মধ্যে বিবাহ হতো না। রিজলি (১৮৯১) সাতটি উপশাখার মধ্যে এদের ধরেছেন এবং লিখেছেন, দুই শাখাই দক্ষিণ রায় নামে এক পৌরাণিক পূর্বপুরুষের বংশধর বলে দাবি করত, আবার পরস্পরকে অবৈধ সন্তান বলে খোঁটা দিত। কেবল জানারাই উপবীত ধারণ করতেন, বিবাহের সময়; আর “যাঁরা কৃষক হিসেবে নিজের হাতে লাঙল চালান, তাঁরা সাধারণত উপবীত ত্যাগ করেন” (পৃ. ১২)।[৭] বিদ্যানিধি (১৮৯৬) যোগ করেছেন, জানারা বৃহদ্ধর্ম পুরাণ থেকে উপবীতের যুক্তি দিতেন আর সুতরা মনুর বিধান মেনে শূদ্রের মতো চলতেন; দুই শাখার মধ্যে বিবাহ বা সাধারণত একসঙ্গে আহার হতো না; এবং হাজরা ও চৌধুরী পরিবারগুলি প্রধানত কুলীন ছিল (পৃ. ১৮৭–১৮৮)।[৮] ভট্টাচার্য (১৮৯৬) সুতদের আরও বর্ধমানিয়া, কাশীপুরী, চাগ্রামী ও বড়গ্রামী উপশাখায় ভাগ করেছেন, যাদের “পৃথক জাতি বলে গণ্য করা যায়”, এবং লিখেছেন জানা পরিবারের পদবী সাধারণত, তবে সবসময় নয়, জানা (পৃ. ১৫৮)।[৯]
ব্যাখ্যা · ঐতিহ্য শাখা দুটিকে কী আলাদা করেছিল, তা মীমাংসিত নয়। রিজলির মন্তব্য উপবীতকে লাঙল না-ধরার সঙ্গে যুক্ত করে, যা বংশের মতোই মর্যাদারও একটি সীমারেখার ইঙ্গিত দেয়। ভৌমিক জানাদের কৃষিজীবী ও কুলীন মর্যাদার দাবিদার, আর সুতদের “কমবেশি পেশাজীবী” বলেছেন, যাঁরা পরে চাকরিজীবী হন (পৃ. ৪৯)।[২] এই প্রকল্পে লিপিবদ্ধ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী জানারা ছিলেন ভূস্বামী পরিবার আর সুতরা কম সম্পত্তিশালী অংশ, যাঁরা বিংশ শতকের গোড়ায় প্রথম বেতনভুক চাকরি ও পেশায় আসেন। গ্রামের সাক্ষ্য মিশ্র। ১৯৯৪–৯৫ সালে ক্ষীরগ্রামে সুত পরিবার ছিল জানাদের চেয়ে বেশি, ১৩৩ বনাম ৮৪, অথচ মন্দিরের আচারে প্রধান স্থান ছিল দুটি জানা বংশের (তোগাওয়া, পৃ. ৪৯–৫০, ১৮৬)।[১৮] সংস্কারকেরা দুই শাখাকে কাছাকাছি আনতে চেষ্টা করেন, এবং বিশের দশক থেকে তাদের মধ্যে বিবাহের নথি পাওয়া যায় (দত্ত, পৃ. ৩১২–৩১৩)।[১] উপাধি ও পদবীর আলোচনা পদবী পাতায়।
সংগঠন, সংস্কার ও উগ্রক্ষত্রিয় নাম
নথিভুক্ত নথিতে আগুরী নামটি পুরোনো; উগ্রক্ষত্রিয় নামটি সম্প্রদায়ের নিজের বেছে নেওয়া। লালবিহারী দে-র উপন্যাস Govinda Samanta (১৮৭৪), পরে Bengal Peasant Life, তার কৃষক পরিবারকে উগ্রক্ষত্রিয় বা আগুরী বলেছে (১৯১৬ সালের পুনর্মুদ্রণের পৃ. ৩১)।[৫] ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত উগ্রক্ষত্রিয় সমিতি, যাকে বর্ধমানের প্রথম জাতিভিত্তিক সমিতি বলা হয়, ১৮৯১ সালে মাসিক উগ্রক্ষত্রিয়-প্রতিনিধি প্রকাশ শুরু করে।[১][৬] আনুমানিক ১৯১৩ থেকে একটি স্তিমিত পর্বের পরে ১৯২৭ সালে সমিতি পুনর্গঠিত হয়, ১৯২৯ সালে ত্রৈমাসিক উগ্রক্ষত্রিয় পত্রিকা শুরু করে এবং ১৯৫০ পর্যন্ত সম্মেলন করে। এসব সম্মেলনে শিক্ষা, উন্নত কৃষি, বিধবাবিবাহ, পণপ্রথার অবসান এবং জানা ও সুতের ঘনিষ্ঠতার পক্ষে প্রচার হয়, আর সদস্যদের উগ্রক্ষত্রিয় প্রার্থীদের ভোট দিতে বলা হয় (দত্ত, পৃ. ৩১১–৩১৩)।[১]সংস্কার আন্দোলন সম্পর্কে আরও পড়ুন।
নথিভুক্ত নামটি ছিল মর্যাদার দাবির অংশ। ১৯০১ সালের জনগণনা আগুরীদের বৈদ্য ও কায়স্থদের সঙ্গে দ্বিতীয় গোষ্ঠীতে রাখে, অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের নিচে এবং সৎশূদ্রদের উপরে স্থান পাওয়া জাতিগুলির মধ্যে। ১৯৩১ সালের জনগণনার আগে জাতিটি “আগুরী” শব্দটিকে অমর্যাদাকর বলে আপত্তি জানায় এবং নিজেদের উগ্রক্ষত্রিয় হিসেবে নথিভুক্ত করাতে সম্মত হয় (দত্ত, পৃ. ৩১৭)।[১] দত্ত বর্ধমানে শর্তসাপেক্ষ স্থানীয় স্বীকৃতির কথা বলেছেন, যেখানে খাদ্য, জল ও পৌরোহিত্যের রীতি জায়গাভেদে আলাদা ছিল (পৃ. ৩১৭–৩১৯)। ভৌমিক ১৯১১ সালের জনগণনার সময়ে যে জাতিগুলি উপবীত ধারণ শুরু করেছিল, তাদের মধ্যে আগুরীদেরও ধরেছেন (পৃ. ২৪৭), যদিও জানাদের প্রথাটি ১৮৯১ সালেই নথিভুক্ত।[১][২] এই দাবি ও প্রতিক্রিয়াগুলি কাল ও স্থানভেদে বদলেছে; এগুলি কোনও একক স্থির ক্রমের বিবরণ নয়।
দ্বিতীয় সংস্করণের নামপত্র। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সংগ্রহ থেকে ডিজিটাল লাইব্রেরি অব ইন্ডিয়ার স্ক্যান।
হরিচরণ বন্ধু · ১৯১৩ ও ১৯৪০
রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয়
হরিচরণ বন্ধুর রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয় ছিল সম্প্রদায়ের দাবির সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বাংলা উপস্থাপন। দত্ত ১৯১৩ সালের প্রথম সংস্করণটিকে রাজপুত সংযোগের পক্ষে লেখা গ্রন্থগুলির মধ্যে আলোচনা করেছেন (পৃ. ৩১৫)।[১]প্রবাসী-র মাঘ ১৩২১ (১৯১৫) সংখ্যার পৃ. ৪৭০–৪৭১-এর একটি সমালোচনা বইটির উৎপত্তি ও রীতিনীতির আলোচনার পরিচয় দেয় এবং প্রশ্ন তোলে, ভূমিকাটি ইংরেজিতে কেন।[১০] ১৯৪০ সালের দ্বিতীয় সংস্করণে বন্ধু একটি অধ্যায়ের বদলে পাল ও সেন শাসকদের শাসনলিপি নিয়ে আলোচনা রাখেন, আর প্রকাশক দ্বিজেন্দ্রচন্দ্র রায় সমাজের ঐক্যের আবেদন জানান।[১১]
সম্প্রদায় তার ইতিহাস কীভাবে তুলে ধরেছিল, তার মূল উৎস এই বই। এর প্রস্তাবিত রাজপুত বংশসূত্র লেখকের যুক্তি, প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত নয়।
নথিভুক্ত · দত্ত দত্ত স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছয়জন উগ্রক্ষত্রিয়ের নাম করেছেন, যাঁরা “স্থানীয় স্তরে মানুষের স্মৃতিতে আজও বেঁচে আছেন”: যাদবেন্দ্রনাথ পাঁজা, দাশরথি তা, আনন্দপ্রসাদ মণ্ডল, বিনয় চৌধুরী, হরেকৃষ্ণ কোঙার ও শিবশঙ্কর চৌধুরী। তিনি আরও লিখেছেন, এঁদের অনেকে পরে “কমিউনিজমের আদর্শে নিজেদের উৎসর্গ করেন” (পৃ. ৩১৪)।[১] তাঁদের পথ ছিল ভিন্ন ভিন্ন: গান্ধীবাদী কংগ্রেসের আন্দোলন, বিপ্লবী গোপন সংগঠন ও আন্দামানের কারাগার, এবং দামোদর অঞ্চলে ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো অভ্যুত্থান।
দত্তের (পৃ. ৩১৪) উল্লেখ করা স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুরী অংশগ্রহণকারী ও তাঁদের রাজনৈতিক সংযোগ। বিবরণগুলি নিচের লেখায় ও ব্যক্তিত্ব বিভাগে উদ্ধৃত উৎস থেকে নেওয়া; “পাওয়া যায়নি” মানে এখনও আর কোনও নথি মেলেনি।
১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলনের জন্য বর্ধমানে ওকালতি ত্যাগ; মহিষবাথানের লবণ সত্যাগ্রহ; প্রায় কুড়ি বছর বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের নেতৃত্ব; ১৯৩২–৩৪ ও ১৯৪২ সালে কারাবাস
রাজ্যের কুটির ও ক্ষুদ্রশিল্প মন্ত্রী; ১৯৫৮–৬১ সালে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি
১৯২৮ থেকে যুগান্তর; ১৯৩৮ থেকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি; পরে সিপিআই(এম)
১৯৩০ সালে বর্ধমানের সত্যাগ্রহী দলের নেতৃত্ব; বিপ্লবী কাজ ও কারাবাস
১৯৫২ সালে বর্ধমানের প্রাক্তন মহারাজাকে পরাজিত করেন; বামফ্রন্টের ভূমিসংস্কার মন্ত্রী, অপারেশন বর্গা-সহ
আনন্দপ্রসাদ মণ্ডল
আইনজীবী (বি.এল.); দলের উল্লেখ নেই
১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বরে কালনায় তাঁর গ্রেপ্তারের পর জেল, মুনসেফ আদালত, ডাকঘর ও রেলস্টেশনে আক্রমণ
পাওয়া যায়নি
শিবশঙ্কর চৌধুরী
উল্লেখ নেই
দত্তের তালিকায় আন্দোলনের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে নাম আছে
পাওয়া যায়নি
কংগ্রেস ও গান্ধীবাদী আন্দোলন
নথিভুক্ত বর্ধমানের শিক্ষক নৃসিংহমুরারি পাঁজার পুত্র যাদবেন্দ্রনাথ পাঁজা ১৯১১ সালে আইনের ডিগ্রি নেন এবং ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিতে বর্ধমান জেলা আদালতে ওকালতি ছেড়ে দেন (দত্ত, পৃ. ৩১০)।[১] পরে তিনি চব্বিশ পরগনার মহিষবাথানের লবণ সত্যাগ্রহে অংশ নেন, প্রায় কুড়ি বছর অবিভক্ত বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেন, এবং ১৯৩২–৩৪ ও আবার ১৯৪২ সালে কারারুদ্ধ হন।[২১][২২] দাশরথি তা ১৯৩০ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে লবণ সত্যাগ্রহে অংশ নেন।[২৩]
বিপ্লবী সংগঠন ও আন্দামানের কারাগার
নথিভুক্ত বিনয় চৌধুরীর স্মৃতিচারণে আছে, ১৯২৮ সালে তিনি যুগান্তর বিপ্লবী দলে যোগ দেন এবং বিপ্লবীদের জন্য ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের ক্লাসে যেতেন; ১৯৩০ সালে বর্ধমানের সত্যাগ্রহী দলের নেতৃত্ব দেন।[২৪] হরেকৃষ্ণ কোঙার ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনে পনেরো বছর বয়সে প্রথম কারারুদ্ধ হন; বিমান বসুর বিবরণে, সেই সময়েই বিনয় চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। যুগান্তর গোষ্ঠীর পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯৩২ সালে আবার গ্রেপ্তার হয়ে তিনি আন্দামানের সেলুলার জেলে নির্বাসিত হন, এবং সেখানেই মার্কসবাদে আকৃষ্ট হন।[১৩] সেখানে তিনি ১৯৩৩ সালের মে–জুনের অনশনে অংশ নেন, যাতে জোর করে খাওয়ানোর পরে তিন বন্দির মৃত্যু হয়; এবং ১৯৩৭ সালের গণ-অনশনেও, যার পরিণতিতে বন্দিদের মূল ভূখণ্ডের জেলে ফেরানো হয়।[২৫] দুজনেই ১৯৩৮ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন।[২৬][১৩]
দামোদর অঞ্চলে ভারত ছাড়ো আন্দোলন, ১৯৪২
নথিভুক্ত বর্ধমানে ১৯৪২ সালের আন্দোলন নিয়ে সুকান্ত প্রামাণিকের গবেষণায় দাশরথি তা-র ভূমিকা প্রধান। ২৬ আগস্ট তিনি রায়না বাজারে ছাপা একটি প্রচারপত্রে ছাত্রদের সংগ্রামে ডাক দেন; ১ সেপ্টেম্বর জামালপুর ও কালনায় হরতাল সংগঠিত করেন; আর ১৯ সেপ্টেম্বর লুঙ্গি, নকল দাড়ি ও টুপিতে ছদ্মবেশ নিয়ে জামালপুর থানা ও ডাকঘরে হামলার নেতৃত্ব দেন। হামলাকারীদের বেশিরভাগ এসেছিলেন রায়না থানা এলাকা থেকে (পৃ. ২২৩–২২৪)।[১২] সেই সেপ্টেম্বরে কালনা শহরে আইনজীবী আনন্দপ্রসাদ মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পর প্রায় ২৫০ জনের এক জনতা তাঁর মুক্তির দাবিতে জেলের ফটকে আক্রমণ করে, তারপর মুনসেফ আদালত ভাঙচুর করে, ডাকঘরের নথি পোড়ায়, টেলিগ্রাফের তার কাটে এবং রেলস্টেশনে আগুন লাগায় (পৃ. ২২৪)।[১২]
প্রতিবেদিত ২০২৬ সালের একটি সংবাদপত্র-প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দাশরথি তা-র নেতৃত্বে রায়না ও জামালপুর থানা দখল হয় এবং বাঁকুড়া–দামোদর রেলপথ উপড়ে ফেলা হয়; তাঁকে জীবিত বা মৃত ধরার জন্য সরকার ১০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে; এবং মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের আদলে তিনি একটি সমান্তরাল সরকার গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ১৯৩৬ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাপ্তাহিক দামোদর-এ ব্রিটিশবিরোধী লেখা ছাপা হত; তাঁর আত্মগোপনকালে স্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামী রমা তা, পত্রিকাটি চালিয়ে যান।[২১][২৭]
স্বাধীনতার পরে
নথিভুক্ত ১৯৪৭ সালের পরে পথ আলাদা হয়ে যায়। কোঙার ও বিনয় চৌধুরী বর্ধমানে কমিউনিস্ট কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং পরে মন্ত্রী হিসেবে ভূমিসংস্কার পরিচালনা করেন (দেখুন ভূমিসংস্কার ও জনজীবন)।[১৩][২৬] দাশরথি তা কিষান মজদুর প্রজা ও প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টির হয়ে রায়নার প্রতিনিধিত্ব করেন, তারপর ১৯৬৯ সালে কংগ্রেসে ফেরেন।[২৩][২০] কংগ্রেসেই থেকে যাওয়া যাদবেন্দ্রনাথ পাঁজা রাজ্যের মন্ত্রী এবং ১৯৫৮–৬১ সালে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হন।[২২]
ছয়টি নাম দত্তের অধ্যায় থেকে নেওয়া, যা সঞ্জীব বন্ধুর সমাজ-ইতিহাস ও স্থানীয় স্মৃতির উপর নির্ভর করে; প্রত্যেকের জীবনের বিবরণ দলীয় স্মরণলেখ, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও আঞ্চলিক ইতিহাস-গবেষণা থেকে, যা উপরে উদ্ধৃত। এটি আগুরী অংশগ্রহণকারীদের সম্পূর্ণ তালিকা নয়, এবং পদবি থেকে সম্প্রদায়গত পরিচয় অনুমান করা হয়নি। পূর্ণ জীবনী ব্যক্তিত্ব বিভাগে।
ভূমিসংস্কার ও জনজীবন
নথিভুক্ত বিংশ শতকে বর্ধমান কৃষক আন্দোলনের, এবং ১৯৬৭ থেকে জমির ঊর্ধ্বসীমা কার্যকর করার, অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ভূমি ও ভূমিরাজস্ব মন্ত্রী হিসেবে হরেকৃষ্ণ কোঙার গোপনে বা বেনামে রাখা সিলিং-উদ্বৃত্ত জমি খাস করার উদ্যোগ এগিয়ে নেন; দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় একজন অংশগ্রহণকারী হিসেবে এর বিবরণ দিয়েছেন।[১৩][২৮] রুডের ক্ষেত্রসমীক্ষা দেখায়, বর্ধমানে গ্রামীণ বাম রাজনীতি কীভাবে মাঝারি কৃষক ও গরিবদের জোটের উপর দাঁড়িয়েছিল (পৃ. ১০৮, ১১১–১১২)।[২০] একই জেলা থেকে আগুরী ভূস্বামী পরিবারও এসেছে, আবার হরেকৃষ্ণ কোঙার ও বিনয় চৌধুরী-র মতো আগুরী কৃষকনেতাও; তাই সম্প্রদায় ও শ্রেণিকে আলাদা করে দেখা দরকার।
নথিভুক্ত · নৃতাত্ত্বিক গবেষণা গ্রামের রাজনীতি দেখায় আগুরী প্রাধান্য কোথায় থেমে যেত। রুডের গোপীনাথপুরে প্রায় ১৯৫৭–৫৮ সালে ব্লক আধিকারিক গ্রামের প্রথম সরকারি হাতকল বাগদি পাড়ায় বসানোর সিদ্ধান্ত নিলে আগুরী ভূস্বামীরা তার বিরোধিতা করেন এবং হেরে যান। তখন মণ্ডল পরিবারের এক আগুরী, যাঁর জমি ছিল মাত্র প্রায় ৩২ বিঘা, দুই বাগদি নেতার সঙ্গে জোট গড়ে বাগদিদের গ্রামের প্রতিষ্ঠান ও পঞ্চায়েতে আনেন এবং প্রায় ১৯৫৮ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত গ্রামের নেতৃত্ব দেন; পরিবারের পরের প্রজন্মের দুজন ষাটের দশকে সিপিআই(এম)-এ যোগ দেন (পৃ. ৩৬–৪১, ৮৪)।[২০]
আগুরীরা রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতেও এসেছেন: অজিতকুমার পাঁজা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা থেকে ১৯৮৪ সালে লোকসভায় যান এবং পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন।[১৪][১৫]ব্যক্তিত্ব বিভাগে সূত্রসহ জীবনচরিত আছে।
ঔপনিবেশিক বিবরণ পাঠ
১৯০০-র আগের আগুরীদের সম্পর্কে যা জানা যায়, তার অনেকটাই ঔপনিবেশিক নৃতাত্ত্বিক ও বাংলা জাতিবিষয়ক গ্রন্থের লেখকদের কাছ থেকে পাওয়া। রিজলির লেখায় জমি ও সামাজিক সংগঠনের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে শাস্ত্রীয় উৎপত্তির তত্ত্ব এবং স্বভাবসম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য মিশে আছে।[৭] সম্প্রদায়কে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছিল তা বোঝার জন্য এই ওয়েবসাইট এমন নথি ব্যবহার করে; জন্মসূত্রে প্রাপ্ত পরিচয় মানুষের চরিত্র নির্ধারণ করে—এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।
১৮৯৬ সংস্করণের সূচিপত্র, পৃ. x। গোখলে ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্স অ্যান্ড ইকনমিক্স গ্রন্থাগারের স্ক্যান।
যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য · ১৮৯৬
Hindu Castes and Sects-এ আগুরীরা
কলকাতার Thacker, Spink & Co. প্রকাশিত যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের Hindu Castes and Sects-এ “The Aguris of Bengal” অধ্যায়টি (পৃ. ১৫৬–১৫৮) সপ্তম ভাগ, “The Military Castes”-এর অন্তর্ভুক্ত। এটি লেখকের শ্রেণিবিন্যাস; সেনা-নিয়োগের নথি, ব্রিটিশ সামরিক স্বীকৃতি বা কোনও আগুরী রেজিমেন্টের প্রমাণ নয়।[৯]
জীবিকার বিবরণ আরও বাস্তব। অধিকাংশ আগুরী কৃষিজীবী; অন্যরা সরকার ও স্থানীয় ভূস্বামীদের অধীনে চাকরি করতেন, জমিদারি ও মধ্যস্বত্বের অধিকারী ছিলেন, কিংবা বর্ধমানের জেলা আদালতে সফল আইনজীবী ছিলেন (পৃ. ১৫৭)। পৃ. ১৫৮-এ তিনি মহাভারত-এর প্রকাশক প্রতাপচন্দ্র রায়কে সুত আগুরী বলেছেন; আমাদের প্রতাপচন্দ্র রায়ের জীবনচরিতের উৎস এটি। আচারগত মর্যাদা ও বংশগত চরিত্র সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য সেই যুগের জাতপাতসংক্রান্ত ধারণার অংশ।[৯]
জন আর. ম্যাকলেন, Land and Local Kingship in Eighteenth-Century Bengal (১৯৯৩). সম্পূর্ণ কেমব্রিজ পিডিএফ থেকে সরাসরি পড়া হয়েছে (অক্টোবর ২০২৬): পৃ. ৫৪–৫৫, ১১৭–১১৮, ১২৫–১৩৮, ১৫৭–১৬০, ১৮৩–১৮৫, ১৯২, ২৬৩ ও ২৭১। ম্যাকলেন ১৫৮৯ সালের বলে তারিখ দেওয়া এবং ডিমক ও ইনডেনের অনুবাদে উদ্ধৃত চণ্ডীমঙ্গল ব্যবহার করে আগুরীদের বর্ধমানে খত্রীদের চেয়ে প্রাচীন বলে গণ্য করেন; এই পাঠ ও তার সীমাবদ্ধতা উৎপত্তি-পাতায় লেখা আছে। ম্যাকলেন আগুরীদের রাজের নগদী (নগদ বেতনভোগী) সেনাবাহিনী বা অন্য কোনও বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করেননি। উৎসের বিবরণ
লালবিহারী দে, Bengal Peasant Life (১৯১৬ পুনর্মুদ্রণ), ভূমিকা ও পৃ. ১০, ৩১, ৫৯, ৮২, ১৪৯, ২০৪–২০৭, ২৭৮–২৮০. পৃ. ৩১, ৫৯ ও ৮২ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পৃষ্ঠার ছবিতে পড়া হয়েছে। ভূমিকা এবং পৃ. ১০, ১৪৯, ২০৪–২০৭ ও ২৭৮–২৮০ ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ আর্কাইভের যন্ত্রপাঠে পড়া হয়েছে, পৃষ্ঠাসংখ্যা নেওয়া হয়েছে পাতার শীর্ষলেখ থেকে; এই পাতাগুলির ছবি মেলানো হয়নি। সাহিত্যিক উপস্থাপনা, যাচাইকৃত বংশতালিকা বা নৃতাত্ত্বিক বিবরণ নয়। ১৮৭৪-এর প্রথম সংস্করণের সঙ্গে পাঠ মেলানো হয়নি। উৎসের বিবরণ
উগ্রক্ষত্রিয়-প্রতিনিধি, প্রথম খণ্ড (১২৯৮ বঙ্গাব্দ). মালিকের দেওয়া PDF। সম্পূর্ণ তড়িৎ প্রবন্ধ (মুদ্রিত পৃ. ১২–২৩) ও প্রথম সম্পাদকীয়ের সূচনাপৃষ্ঠা স্ক্যানের সঙ্গে মিলিয়ে অনূদিত; নির্বাচিত পাঠ-টীকাও আছে। বাংলা যন্ত্রপাঠ অযাচাইকৃত। সংস্কৃতি পাতায় উদ্ধৃত শিরোনাম ও লেখকের নামের জন্য সূচিপত্র (স্ক্যান ২–৩) ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ ছবির সঙ্গে আবার মেলানো হয়েছে। উৎসের বিবরণ
যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, Hindu Castes and Sects (১৮৯৬), সূচিপত্র পৃ. x ও পৃ. ১৫৬–১৫৮. ভট্টাচার্যের শ্রেণিবিন্যাস ও বিবরণের সাক্ষ্য; সরকারি সেনা-নিয়োগ বা রেজিমেন্টের প্রমাণ নয়। জাতিগত ক্রম, শাস্ত্রীয় বংশসূত্র ও চরিত্রের সাধারণীকরণ ঐতিহাসিক দাবি, বর্তমান তথ্য নয়। অধ্যায়ে অনুবাদকের নাম “Kishori Mohan Ganguli”; জীবনচরিতে মহাভারত সংস্করণের প্রকাশকের ভূমিকা অনুসারে Kisari Mohan Ganguli ব্যবহার করা হয়েছে। উৎসের বিবরণ
হরিচরণ বন্ধু, রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয়, দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯৪০). উৎসর্গ, ভূমিকা, নয়টি অধ্যায় ও সংরক্ষিত উপসংহারের ইংরেজি অনুবাদ ৯৮ পাতার PDF-এ রয়েছে; মূল শুদ্ধিপত্র ও অনুবাদকের টীকা-সহ। মুদ্রিত ১৪২–১৪৩ পাতা ডিজিটাল মূলে নেই। অনিশ্চিত পাঠ চিহ্নিত; সম্পূর্ণ যাচাইকৃত গবেষণা-সংস্করণ নয়। পৃথক ভূমিকার পাঠে বাংলা প্রতিলিপি ও মূল ছবি আছে। উৎসের বিবরণ
জে. সি. কে. পিটারসন, Bengal District Gazetteers: Burdwan (১৯১০). অক্টোবর ২০২৬-এ ডিজিটাল কপি থেকে পড়া হয়েছে। পৃ. ২২-এর অনুচ্ছেদ পাতার ছবির সঙ্গে মেলানো হয়েছে; উৎপত্তি পাতায় উদ্ধৃত পৃষ্ঠাগুলি (পৃ. ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২) তার পাঠ্যস্তরে পড়া হয়েছে। ঔপনিবেশিক এই দাবি এখানে বিতর্কিত মত হিসেবে উল্লেখিত, প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস হিসেবে নয়। মনসা ও ধর্মরাজ-সংক্রান্ত অংশ (পৃ. ৫৬–৫৭) ৯ অক্টোবর ২০২৬-এ পাঠ্যস্তরে পড়া হয়েছে। উৎসের বিবরণ
Hare Krishna Konar — উইকিপিডিয়া. নিবন্ধ পড়া হয়েছে ৬ অক্টোবর ২০২৬; সেলুলার জেল অংশ পড়া হয়েছে ৮ অক্টোবর ২০২৬। নিবন্ধের কয়েকটি দাবির (ভাষাজ্ঞান, বিদেশি দলের সদস্যপদ) যথেষ্ট সূত্র নেই; সেগুলি ব্যবহার করা হয়নি। ১৯৩৭ সালের অনশনের বিবরণে নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র নেই। উৎসের বিবরণ