সামাজিক ঐতিহ্যের একটি স্বতন্ত্র প্রকল্প

ঐতিহ্য প্রকল্পব্যক্তিত্বহরেকৃষ্ণ কোঙার

হরেকৃষ্ণ কোঙার

হরেকৃষ্ণ কোঙার ১৯১৫ সালের ৫ আগস্ট বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ হালনাগাদ:

পুরোনো পারিবারিক ছবিতে হরেকৃষ্ণ কোঙার, বিভা কোঙার ও দুই শিশু
বিভা কোঙারের সঙ্গে হরেকৃষ্ণ কোঙার। কমন্সের তালিকায় ছবিটির সাল ১৯৪১। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লেখ্যাগারকে উৎস এবং ভারতে পাবলিক ডোমেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিশুদের পরিচয় তালিকায় নেই।
এই পাতার সূত্র উল্লেখ করুন

আগুরী ঐতিহ্য. “হরেকৃষ্ণ কোঙার.” সর্বশেষ হালনাগাদ: . https://aguri-heritage.in/bn/person-hare-krishna-konar.

এই পাতার সূত্র উল্লেখ করলেই তা পুনঃপ্রকাশের অনুমতি পাওয়া যায় না। স্বত্ব ও পুনর্ব্যবহার.

বিপ্লবী বন্দি · কৃষক আন্দোলন · ভূমিসংস্কার

জীবন ও কাজ

১৯১৫–১৯৭৪ · কৃষক সংগঠক, বিধায়ক ও ভূমিমন্ত্রী

হরেকৃষ্ণ কোঙার ১৯১৫ সালের ৫ আগস্ট বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থান নিয়ে বিবরণে মতভেদ আছে: বিমান বসুর জন্মশতবর্ষের প্রবন্ধে মেমারির কথা আছে, উইকিপিডিয়ায় কামারগোড়িয়ার। বসু জানিয়েছেন, ১৯৩০ সালে পনেরো বছর বয়সে আইন অমান্য আন্দোলনের সময় তিনি প্রথম গ্রেপ্তার হন।[১][২]

তিরিশের দশকের গোড়ায় একটি বিপ্লবী মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি আন্দামানের সেলুলার জেলে নির্বাসিত হন; সিপিআই(এম)-এর পত্রিকা অনুযায়ী তখন তাঁর বয়স আঠারো। জেলেই তিনি মার্কসবাদে আকৃষ্ট হয়ে কমিউনিস্ট কনসলিডেশন গোষ্ঠীতে যোগ দেন। ১৯৩৮ সালে মুক্তির পর ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন।[১][৩]

উইকিপিডিয়ার জীবনী অনুযায়ী তিনি ১৯৩৩ সালের এপ্রিলে সেলুলার জেলে পৌঁছন এবং সে বছর ১২ মে জেলের অবস্থার প্রতিবাদে শুরু হওয়া অনশনে যোগ দেন। জোর করে খাওয়ানোর পরে তিন বন্দি — মহাবীর সিং, মোহনকিশোর নমোদাস ও মোহিত মৈত্র — মারা যান; ৪৬ দিন পরে, ২৬ জুন, কর্তৃপক্ষ কুঠুরিতে আলো, বিছানা ও পড়াশোনার অধিকার-সহ দাবিগুলি মেনে নিলে অনশন শেষ হয়। একই বিবরণে ১৯৩৫ সালে বন্দিদের মধ্যে কমিউনিস্ট কনসলিডেশন গড়ে তোলার কৃতিত্ব কোঙারকে দেওয়া হয়েছে। ১৯৩৭ সালের ৯ জুলাই তিনি ও শিব বর্মা ভাইসরয়ের কাছে আবেদন পাঠান, এবং ২৫ জুলাই রাজবন্দিরা দ্বিতীয় দফায় গণ-অনশন শুরু করেন। অনশন চলে ৩৬ দিন; আগস্টে গান্ধীজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির আবেদনের পর তা শেষ হয়, এবং সরকার আন্দামানের বন্দিদের মূল ভূখণ্ডের জেলে ফেরানো শুরু করে। ১৯৩৮ সালের ২৭ মার্চ কোঙার মুক্তি পান।[২]

তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল গ্রামীণ বর্ধমান। বসুর বিবরণে ক্যানাল করের বিরুদ্ধে সংগঠন এবং ১৯৪৪ সালের অজয় নদের বাঁধ আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বের কথা আছে। ১৯৫৭ সালে, কালনা কেন্দ্র যখন দুজন সদস্য নির্বাচন করত, কোঙার সেখান থেকে বিধায়ক হন; পরে ১৯৬২, ১৯৬৭, ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালেও জেতেন এবং ১৯৭২-এ আসনটি হারান। ১৯৬৪ সালের পার্টি-বিভাজনের পর তিনি সিপিআই(এম) ও তার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।[১][৪]

দুটি যুক্তফ্রন্ট সরকারেই তিনি ভূমি ও ভূমিরাজস্ব মন্ত্রী ছিলেন: ১৯৬৭ সালের ১ মার্চ থেকে ২১ নভেম্বর, এবং ১৯৬৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৭০ সালের ১৬ মার্চ। কোঙার যাঁকে ভূমি-নথি ও জরিপের অধিকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন, সেই দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোপনে বা বেনামে রাখা সিলিং-উদ্বৃত্ত জমি খাস করার সরকারি উদ্যোগের বিবরণ দিয়েছেন। ভাই বিনয় কোঙারের কথায়, হরেকৃষ্ণ মনে করতেন কেবল প্রশাসনের মাধ্যমে ভূমিসংস্কার সম্ভব নয়। তাই আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কৃষক কমিটিগুলি এমন জমি চিহ্নিত ও দখল করত।[২][৫][৬]

১৯৬৭ সালের নকশালবাড়ি অভ্যুত্থান এই পথের পরীক্ষা নেয়। শিলিগুড়ির কাছে কোঙার কানু সান্যালের সঙ্গে আলোচনা করেন, কিন্তু সমঝোতা কার্যকর হয়নি এবং পরে পুলিশি অভিযান হয়। বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবরণে কোঙারের মত ছিল, দমননীতি আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেবে, আর গরিব কৃষকের জমির ক্ষুধা মেটালেই তা দুর্বল হবে। বিদ্রোহীদের প্রতি সহানুভূতিশীল একটি সমসাময়িক বিবরণ তাঁকে অন্যভাবে দেখায়; সেখানে একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিনি তাঁদের দমনযোগ্য “ডাকাত” বলেছিলেন।[৭][৫][৮]

১৯৬৮ বা ১৯৬৯ সালে (সূত্রভেদে) কোঙার সর্বভারতীয় কৃষকসভার সাধারণ সম্পাদক হন এবং ১৯৭৪ সালের ২৩ জুলাই কলকাতায় ক্যানসারে মৃত্যু পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন।[১][২]

মূল্যায়ন ও বিতর্ক

১৯৬৭–৭০-এর জমি আন্দোলনের পরিমাপ নিয়ে ভিন্ন হিসাব আছে। উইকিপিডিয়ার প্রায় দশ লক্ষ একরের হিসাব আইনি প্রক্রিয়ায় খাস হওয়া জমির; অতীগ ঘোষের উদ্ধৃত একটি তুলনায় কৃষক কমিটিগুলির হাতে প্রায় তিন লক্ষ একর জমি আসার কথা বলা হয়েছে। ঘোষ এই তুলনা দিয়ে দেখান যে পরে সিপিআই(এম) আন্দোলনের বদলে প্রশাসনের উপর নির্ভর করেছিল। আরিল্ড এঙ্গেলসেন রুড বর্ধমানের গ্রামে গবেষণা করে দলের গ্রামীণ সমর্থনকে বিভিন্ন স্তরের কৃষকের জোট দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। রুড লিখেছেন, দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকারের সময় কোঙার কৃষকদের নিজেরাই বেআইনিভাবে রাখা জমি দখল করতে এবং নথিভুক্তির কাজ পরে আধিকারিকদের হাতে ছেড়ে দিতে বলেন; তিনি আন্দোলনের “ভুল ও বাড়াবাড়ি”-কে কোঙারের ভাষায় “সাধারণ গ্রামীণ রাজনীতি” বলে উদ্ধৃত করেছেন। রুডের রায়নার গবেষণা-গ্রামে মাত্র প্রায় ১৫ বিঘা জমি পুনর্বণ্টিত হয়, বেশিরভাগই অলাভজনক ছোট টুকরোয়, যা প্রাক্তন মালিকেরা অচিরেই আদালতের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনেন (পৃ. ১০৬, ১১১–১১২, ১১৬)।[৯] জমি দখল জমির মালিকদের সঙ্গে সংঘাতও ডেকে আনে, আর বিনয় কোঙার পরে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে ভূমিসংস্কারের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেছেন।[২][১০][৬]

কোঙারের জীবনের বিস্তারিত বিবরণগুলির বেশিরভাগ দলীয় সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের লেখা; সেভাবেই সেগুলি পড়া উচিত। পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন জীবনী পাওয়া যায়নি। সম্প্রদায়গত পরিচয়ের ভিত্তি দত্তের Explorations in Colonial Bengal-এর ৩১৪ পৃষ্ঠা, যেখানে তিনি উগ্রক্ষত্রিয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে হরেকৃষ্ণ কোঙারের নাম করেছেন; পদবি থেকে তা অনুমান করা হয়নি।[১১]

জল ও জমিজীবন ও কর্মের অনুপ্রেরণায় কল্পিত চিত্র

সব ব্যক্তিত্বের পরিচয় পড়ুন →

সংগ্রহে অন্তর্ভুক্তির সূত্র

টীকা ও উৎস

  1. বিমান বসু, হরেকৃষ্ণ কোঙারের জন্মশতবর্ষের স্মরণলেখা (২০১৪). পড়া দলীয় স্মরণলেখা; অসংগত কারাজীবনের তারিখ ও বয়স বাদ। উৎসের বিবরণ
  2. Hare Krishna Konar — উইকিপিডিয়া. নিবন্ধ পড়া হয়েছে ৬ অক্টোবর ২০২৬; সেলুলার জেল অংশ পড়া হয়েছে ৮ অক্টোবর ২০২৬। নিবন্ধের কয়েকটি দাবির (ভাষাজ্ঞান, বিদেশি দলের সদস্যপদ) যথেষ্ট সূত্র নেই; সেগুলি ব্যবহার করা হয়নি। ১৯৩৭ সালের অনশনের বিবরণে নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র নেই। উৎসের বিবরণ
  3. “হরেকৃষ্ণ কোঙার” — তাঁর ১৯৬৯ সালের বক্তৃতার সম্পাদকীয় ভূমিকা, The Marxist XXXI(1) (২০১৫). সরাসরি পড়া। দলীয় উৎস; তাঁর নিজের প্রকাশিত মত ও দলের দেওয়া জীবনবৃত্তান্তের জন্য ব্যবহৃত। উৎসের বিবরণ
  4. কালনা বিধানসভা কেন্দ্র — নির্বাচনী ফল, ১৯৫৭–১৯৭২. পড়া হয়েছে ৬ অক্টোবর ২০২৬। নির্বাচন কমিশনের মূল প্রতিবেদনগুলি আলাদা করে দেখা হয়নি। উৎসের বিবরণ
  5. দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, “Land Reform in West Bengal” (২০০০). প্রবন্ধের প্রকাশ্য অংশ পড়া হয়েছে; বাকিটা সদস্যপদ-নির্ভর। অংশগ্রহণকারীর স্মৃতিচারণ, নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নয়। উৎসের বিবরণ
  6. অপরাজিতা বকসী, “Contextualising Land Reform in West Bengal: An Interview with Benoy Konar” (২০১৪). সরাসরি পড়া। পরিবারের সদস্য ও দলীয় সহকর্মীর স্মৃতি; তাঁর সাক্ষ্য হিসেবেই ব্যবহৃত। উৎসের বিবরণ
  7. “Other Voices in Naxalbari Movement”, Frontier 53(22–25) (২০২০). সরাসরি পড়া। পরবর্তীকালের পর্যালোচনা; বৈঠকের সঠিক তারিখ নিয়ে বিবরণে মতভেদ আছে, তাই তারিখের উপর নির্ভর করা হয়নি। উৎসের বিবরণ
  8. গৌতম আপ্পা, “The Naxalites”, New Left Review I/61 (১৯৭০). সরাসরি পড়া। সমালোচনামূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি; সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি পরোক্ষ। উৎসের বিবরণ
  9. আরিল্ড এঙ্গেলসেন রুড, Poetics of Village Politics: The Making of West Bengal’s Rural Communism (২০০৩). দেওয়া স্ক্যানে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম অধ্যায় পড়া হয়েছে এবং পূর্ণপাঠ অনুসন্ধানে সব আগুরী-অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। বইয়ের গ্রাম ও ব্যক্তিনাম লেখকের দেওয়া; গ্রামগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে ছদ্মনামে রাখা, কোনও বাস্তব স্থানের সঙ্গে মেলানো উচিত নয়। উৎসের বিবরণ
  10. অতীগ ঘোষ, Left Front Government in West Bengal (1977–1982): Considerations on “Passive Revolution” and the Question of Caste in Bengal Politics (২০১৭). সরাসরি পড়া। একরের তুলনাটি আগের গবেষণা থেকে নেওয়া; এখানে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। উৎসের বিবরণ
  11. অচিন্ত্যকুমার দত্ত, “Prosperity, Dominance, and Social Mobility: Emergence of a Mobile Caste in Colonial Southwest Bengal” (২০২৩), পৃ. ২৯৭–৩২৪. দেওয়া বইয়ে সম্পূর্ণ অধ্যায়, অন্ত্যটীকা ও গ্রন্থপঞ্জি সরাসরি পড়া হয়েছে। উল্লেখে মুদ্রিত পৃষ্ঠাসংখ্যা ব্যবহৃত। উৎপত্তির অনুমান লেখকের মত হিসেবেই রাখা হয়েছে। সংযোগে প্রকাশকের বইয়ের নথি খুলবে। উৎসের বিবরণ

ঐতিহ্য প্রকল্পে খুঁজুন

শুরু করতে একটি শব্দ বা বাক্যাংশ লিখুন।

সাময়িকপত্রের ভিতরের বাংলা লেখার জন্য ব্যবহার করুন সাময়িকপত্রের পাঠাগার.