কমিউনিস্ট রাজনীতি · ভূমিসংস্কার · গ্রামোন্নয়ন
জীবন ও কাজ
১৯১১–২০০০ · স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সিপিআই(এম) নেতা[১]
বিনয় চৌধুরী বিপ্লবী রাজনীতি দিয়ে শুরু করেন। সাক্ষাৎকারভিত্তিক স্মৃতিচারণে তিনি বলেছেন, ১৯২৮ সালে সরোজ মুখার্জির সঙ্গে শ্রীরামপুর কলেজে ভর্তি হয়ে যুগান্তরে যোগ দেন। সেই বছর ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের সঙ্গে পরিচয় এবং বিপ্লবীদের জন্য তাঁর ক্লাসে যোগ দেওয়ার কথাও স্মরণ করেছেন।[২]
তাঁর কথায়, ১৯৩০ সালে বর্ধমানের সত্যাগ্রহী দলের নেতৃত্ব দেন; সাধারণ মানুষের প্রতি বিবেকানন্দের ভাবনা তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল।[২] ১৯৩৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং ১৯৫২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমানের প্রাক্তন মহারাজাকে পরাজিত করেন।[৩]
১৯৭৭ সালে বামফ্রন্টের জয়ের পরে মন্ত্রী হিসেবে ভূমিসংস্কার ও পঞ্চায়েতের বিকাশে নেতৃত্ব দেন। ভাগচাষির অধিকার নথিভুক্ত করার কর্মসূচি অপারেশন বর্গা-র সঙ্গে তাঁর নাম বিশেষভাবে যুক্ত। দলের স্মরণবার্তায় সংস্কার রূপায়ণে আইনের জ্ঞান ও কৃষক সংগঠনকে একত্র করার জন্য তাঁকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে।[৩] তার আগে, ১৯৬৭ সালে প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের পরে বর্ধমানের কৃষক সমিতির নেতা হিসেবে তিনি রায়নার গ্রামে গ্রামে সভা করে সেখানে ছড়িয়ে পড়া লুটপাটের নিন্দা করেন: “লুট করা আমাদের আদর্শ নয়” (রুড, পৃ. ১০৯–১১০)।[৪]
অ্যান্ড্রু হোয়াইটহেডকে ১৯৯২ সালের জুনে দেওয়া সংরক্ষিত সাক্ষাৎকারে বিপ্লবী কাজ, কারাজীবন, কমিউনিস্ট আন্দোলন ও ভূমিসংস্কার নিয়ে তাঁর স্মৃতি আছে।[১] বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ২০০০ সালে তাঁর স্মৃতিতে গ্রামীণ প্রযুক্তি কেন্দ্রের নামকরণ করে; ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও গ্রামীণ জীবিকা কেন্দ্রটির কাজের বিষয়।[৫]
দত্ত Explorations in Colonial Bengal (২০২৩), পৃ. ৩১৪-এ স্বাধীনতা আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের উগ্রক্ষত্রিয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বিনয় চৌধুরীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।[৬]

