স্বাধীনতা আন্দোলন · সাংবাদিকতা · জনসেবা
জীবন ও কাজ
১৯১১–১৯৮০ · স্বাধীনতা সংগ্রামী, সম্পাদক ও বিধায়ক
দাশরথি তা ১৯৩০ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন এবং লবণ সত্যাগ্রহ ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নেন।[১] ইতিহাসবিদ সুকান্ত প্রামাণিকের গবেষণায় ১৯৪২ সালের ২৬ আগস্ট রায়না বাজারে ছাপা তাঁর একটি প্রচারপত্রের কথা আছে, যাতে ছাত্রদের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। একই গবেষণা অনুসারে, ১ সেপ্টেম্বর তিনি জামালপুর ও কালনায় হরতাল সংগঠিত করেন।[২]
স্বাধীনতার পরে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে এবং আবার ১৯৫৭ ও ১৯৬৭ সালে তিনি রায়না থেকে বিধানসভায় নির্বাচিত হন—প্রথমে কিষান মজদুর প্রজা পার্টি, পরে প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে।[১] বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইতিহাস-গবেষণায় ১৯৬৭ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের মন্ত্রিসভায় তাঁকে নিয়োগের সুপারিশের উল্লেখ রয়েছে।[৩] আরিল্ড এঙ্গেলসেন রুডের রায়না-গবেষণায় তাঁকে এই কেন্দ্রের প্রধান বিরোধী নেতা হিসেবে দেখানো হয়েছে: ষাটের দশকের মাঝামাঝি খাদ্যসংকটের সময় তিনি কয়েক হাজার কৃষকের একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ, যে মিছিল দক্ষিণ দামোদরে জমিদারদের মজুত ধান দখল করে; আর ১৯৬৯ সালে তিনি প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি ছেড়ে কংগ্রেসে যান, সঙ্গে নিয়ে যান পিএসপি-র বহু প্রাক্তন ভোটারকে (পৃ. ২১, ১০৯)।[৪]
তিনি দামোদর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকও ছিলেন। ১৯৩৬ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে শুরু হয়ে পত্রিকাটি সত্তরের দশকে দৈনিক হয়।[৫] বাংলা স্থানীয় বিবরণে তাঁর আত্মগোপনকালে স্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামী রমা তা-র পত্রিকাটি চালিয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করা হয়েছে।[৬]
দত্ত Explorations in Colonial Bengal-এর ৩১৪ পৃষ্ঠায় উগ্রক্ষত্রিয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে দাশরথি তা-র নাম উল্লেখ করেছেন। এই সম্প্রদায়গত পরিচয়ের উৎস উপরের জীবনীমূলক উৎসগুলি থেকে পৃথক।[৭]

