প্রকাশকের নিবেদন দ্বিজেন্দ্রচন্দ্র রায় রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয় · দ্বিতীয় সংস্করণ সম্পূর্ণ প্রকাশকের নিবেদন স্ক্যানের সঙ্গে মেলানো বাংলা প্রতিলিপি। পাঠযোগ্য ঐতিহাসিক বানান রাখা হয়েছে; পঙ্‌ক্তির শেষে ভাগ করা শব্দ জোড়া হয়েছে। স্বাধীন ভাষা-পর্যালোচনা সম্পন্ন নয়। PDF স্ক্যান ৭ · প্রথম পাতা শ্রীভগবানের কৃপায়, পরম শ্রদ্ধাভাজন শ্রীযুক্ত হরিচরণ বন্ধু মহাশয়ের সামান্য সাধনার ফল “রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয়” নামক গ্রন্থখানির দ্বিতীয় সংস্করণ আজ সাধারণে প্রকাশিত হইল। প্রায় ৩০ বৎসর পূর্বে তিনি ইহার প্রথম সংস্করণে বেদ উপনিষদাদি প্রাচীন ধর্মশাস্ত্র সমূহ ও কল্পসূত্র প্রভৃতি প্রামাণ্য জৈনশাস্ত্র সমূহ হইতে রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয়ের অভিন্নতা প্রদর্শন করিয়াছিলেন। বর্তমান সংস্করণে “বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ” ও “বরেন্দ্র অনুসন্ধান-সমিতি” কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তকাদি ও শাসন-লিপি সমূহের সাহায্যে প্রমাণ করিয়াছেন যে, বঙ্গদেশাগত ভাগ্যান্বেষী যুদ্ধোপজীবী রাজপুত ক্ষত্রিয়গণ রাঢ়প্রদেশে “অগ্রহার” লাভ করিয়া ক্রমশঃ সামন্ত নৃপতি-পদে উন্নীত হইয়াছিলেন, এবং বলবান, সাহসান্বিত ও যুদ্ধকুশল ছিলেন বলিয়া, তাঁহারা বেদ ও উপনিষদাদি ধর্মশাস্ত্রপ্রোক্ত “উগ্রপুত্র” আখ্যার অনুরূপ “উগ্রক্ষত্রিয়-সুত” এই গৌরবাত্মক আখ্যাটি লাভ করিয়াছিলেন। তিনি আরও দেখাইয়াছেন যে, এই উগ্রক্ষত্রিয় সামন্ত নৃপতিগণেরই অন্যতম বর্দ্ধমানের পাল-উপাধিধারী ‘রত্নাকর’ বংশে পাল সম্রাটগণের এবং সেন-উপাধিধারী সোম-বংশে সেন-রাজগণের উদ্ভব হইয়াছিল। শ্রীযুক্ত বন্ধু মহাশয় তাঁহার প্রতিপাদ্য বিষয়ের অনুকূলে যে সমুদয় প্রমাণ সংগ্রহ করিয়াছেন, এবং সেই সমুদয় প্রমাণের যুক্তি-যুক্ততা সম্বন্ধে নিরপেক্ষভাবে তিনি যে আলোচনা করিয়াছেন, তাহা শুধু উগ্রক্ষত্রিয় জাতির নহে, পরন্তু প্রত্যেক অনুসন্ধিৎসু পাঠকের—বিশেষতঃ, বাঙ্গলার ভবিষ্যৎ ইতিহাস-লেখকের—নিকট বিশেষভাবেই সমাদৃত হইবে! শ্রীযুক্ত বন্ধু মহাশয়ের আজীবন অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এই গ্রন্থখানি যাহাতে গৃহ-পঞ্জিকার ন্যায় প্রত্যেক উগ্রক্ষত্রিয়ের গৃহে রক্ষিত হইতে পারে, PDF স্ক্যান ৮ · দ্বিতীয় পাতা এবং তৎপাঠে প্রত্যেক উগ্রক্ষত্রিয় তাঁহার পূর্বগৌরব অনুভব করিয়া, যাহাতে আত্মস্থ হইতে পারেন তজ্জন্য পুস্তকখানির মূল্য যথাসম্ভব কম করা হইয়াছে। এস্থলে, আমাদের অদৃষ্টের পরিহাস স্বরূপ একটি শোকাবহ ঘটনার উল্লেখ না করিয়া পারিলাম না। এই পুস্তকখানির পাণ্ডুলিপি পাঠ করিয়া পণ্ডিত-প্রবর স্বর্গীয় অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ মহাশয় স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া ইহার একটি ভূমিকা লিখিয়া দিবার ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিলেন। তাঁহার আকস্মিক অকালমৃত্যু আমাদিগকে স্বজন-বিয়োগের ন্যায়ই ব্যথিত করিয়াছে। শ্রীভগবান তাঁহার কর্ম্মক্লান্ত আত্মাকে পরম শান্তি দান করুন, আর আমাদের প্রতি তাঁহার ইহলোকের শুভেচ্ছা, পরলোক হইতে, আশীর্বাদরূপে, আমাদের কর্ম্মক্ষেত্রে বর্ষিত হউক—ইহাই মাত্র প্রার্থনা। পরিশেষে, পুস্তকখানির প্রকাশকরূপে আমার স্বজাতিগণের নিকট আমার নিবেদন এই যে, আমাদের বিভিন্ন থাক্ বা শ্রেণীগুলির পরস্পর বিরোধী ভাব এবং তজ্জনিত সঙ্ঘবদ্ধতার অভাব আমাকে অত্যন্ত বেদনা দেয়। এই বিরোধীভাব যে জাতীয় উন্নতির একান্ত পরিপন্থী এবং আত্মনাশেরই নামান্তর, তাহা আমরা আজও হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিলাম না—ইহা অপেক্ষা আক্ষেপের বিষয় আর কি হইতে পারে? আমি আশা করি, শ্রীযুক্ত বন্ধু মহাশয়ের সঙ্কলিত এই গ্রন্থখানি আমার এই অভিযোগ নিরাকরণ করিয়া উগ্রক্ষত্রিয়গণকে পুনরায় সঙ্ঘবদ্ধ করিবে, এবং তাঁহাদিগের হৃদয়ে ক্ষত্রিয়োচিত আত্মসম্মান জাগরূক রাখিবে। শ্রীঅক্ষয় তৃতীয়া। কলিকাতা, ২৭শে বৈশাখ, ১৩৪৭। বিনীত—শ্রীদ্বিজেন্দ্র চন্দ্র রায়।